প্যাকেটেই থাকুক ক্ষতিকর উপাদানের সতর্কবার্তা, এক মাসের প্রচারে নামছে তরুণেরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বি সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজে বোঝার উপযোগী তথ্য নিশ্চিত করতে এবং কার্যকর ফ্রন্ট অফ প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) প্রবিধান বাস্তবায়নের পক্ষে জনদাবি জোরদার করতে এক মাসব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারাভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণেরা। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে এ প্রচারাভিযানে ভোক্তার জানার অধিকার এবং কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।
সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে জনদাবি: বাংলাদেশে নীতিগত উদ্যোগের জন্য তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এফওপিএল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের নীতিগত প্রেক্ষাপট এবং জনদাবি তৈরিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (আইন ও নীতি) ও যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সিনিয়র পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কনসালট্যান্ট মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কারিগরি উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম সুজন।
স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, এফওপিএল বিষয়ে সরকার এবং বিএফএসএ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করনে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিতথ্য অবশ্যই সহজ ভাষায় প্যাকেটের সামনে সতর্কতাসহ তুলে ধরার দাবির প্রতি সমর্থন ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন।
কর্মশালায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের নীতিগত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যকর এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পক্ষে সম্মিলিত জনসমর্থন গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, আমিনুল ইসলাম সুজন তরুণদের নেতৃত্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারাভিযানের কৌশল এবং গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক মাস ধরে তথ্যভিত্তিক পোস্ট, সংক্ষিপ্ত ভিডিও, কুইজ ও তরুণদের বক্তব্যের মাধ্যমে এফওপিএল বিষয়ে জনআলোচনা জোরদার করা হবে। প্রচারাভিযানের মূল লক্ষ্য শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি নয়, বরং কার্যকর, বাধ্যতামূলক ও প্রমাণভিত্তিক এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের পক্ষে জনদাবি তৈরি করা। কর্মশালায় তরুণেরা তাঁদের মতামত ও সম্ভাব্য প্রচার কার্যক্রম তুলে ধরেন।
অধিবেশনটি পরিচালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের এফওপিএল প্রকল্পের সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান। সমাপনী পর্বে অ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইন বিষয়ক কর্মসূচি কর্মকর্তা মারজানা মুনতাহা পরবর্তী পদক্ষেপ তুলে ধরেন। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর এফওপিএল বাস্তবায়নের পক্ষে জনদাবি জোরদার করবে।
