৬১৮ কোটি টাকার অন্তর্বাস পরে বিতর্কে কাইলি জেনার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
৬১৮ কোটি টাকার অন্তর্বাসে কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত
রিয়েলিটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও প্রসাধন ব্যবসার সুবাদে বিনোদন দুনিয়ার পরিচিত মুখ কাইলি জেনার। এবার ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের বার্ষিক ফ্যাশন শোতে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে পরেছেন ৫ কোটি ডলার মূল্যের বিশেষ অন্তর্বাস। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার দাম প্রায় ৬১৮ কোটি টাকা। তবে তার এই উপস্থিতি প্রশংসার পাশাপাশি জন্ম দিয়েছে বিতর্কেরও।
রোববার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয় ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের এবারের ফ্যাশন শো। সেখানে ব্র্যান্ডটির বহুল আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরে মঞ্চে হাজির হন ২৯ বছর বয়সি কাইলি। মূল্যবান এই অন্তর্বাসটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ও ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা দিয়ে। এর নকশা ও নির্মাণে যুক্ত ছিল বিলাসবহুল অলংকার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো।
ফ্যান্টাসি ব্রা ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই বিশেষ অন্তর্বাস পরেছেন হেইডি ক্লুম, জিসেল বুন্ডশেন ও টাইরা ব্যাংকসের মতো খ্যাতিমান সুপার মডেলরা। ফলে এটি পরার সুযোগকে মডেলদের জন্য বিশেষ সম্মান ও ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হয়। তবে ২০১৮ সালের পর এবারের আয়োজনেই প্রথমবারের মতো ফ্যাশন শোর মঞ্চে ফিরেছে ফ্যান্টাসি ব্রা।

৬১৮ কোটি টাকার অন্তর্বাসে কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত
এবার সেই ঐতিহ্যবাহী অন্তর্বাস পরার সুযোগ পেয়েছেন কাইলি জেনার। বিষয়টি নিয়ে তার অনেক ভক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে একাংশের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যান্ডটির সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ সুপার মডেলদের বাদ দিয়ে কেন একজন রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকাকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হলো?
বিবিসি নিউজবিটের প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিপণন বিশেষজ্ঞ জোয়েল মারলিনারসনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, কাইলিকে এই অন্তর্বাস পরানোর সিদ্ধান্তটি সুপরিকল্পিত। এর মধ্য দিয়ে মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মারলিনারসনের ভাষ্য, বর্তমান সময়ে ব্র্যান্ডগুলো শুধু প্রচলিত অর্থে একজন মডেলের যোগ্যতা বিবেচনা করছে না; বরং কে সবচেয়ে বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন, সেটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তার মতে, কাইলি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাদের জনপ্রিয়তা ফ্যাশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনজগতেও বিস্তৃত।
কার্দাশিয়ান পরিবারের রিয়েলিটি অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে বেড়ে ওঠা তরুণ দর্শকদের সঙ্গে কাইলির একটি দৃঢ় সংযোগ রয়েছে। তার বিপুল পরিচিতি ও অনুসারীর কারণে ফ্যাশন শোর প্রতি নতুন দর্শকদের আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে বিষয়টি সবাই ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। বিশেষজ্ঞের মতে, যারা নাওমি ক্যাম্পবেলের মতো কিংবদন্তি সুপার মডেলদের সময়ের ফ্যাশন শো দেখে অভ্যস্ত, তাদের কাছে কাইলিকে এই সুযোগ দেওয়াটা পুরোনো ঐতিহ্য থেকে সরে আসার মতো মনে হতে পারে। তাদের প্রত্যাশা, ফ্যাশন দুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা অভিজ্ঞ মডেলরাই এমন সম্মানজনক সুযোগ পাবেন।
