ছাড়া পেলেন নেহা বোরা, অভিজিৎকে ফের গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসে প্রস্তাবিত ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ প্রতিবাদ মিছিলের আগে আটক হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার (প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট) করেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, একই ঘটনায় আটক ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (এআইএসএ)-এর সভানেত্রী নেহা বোরাকে আজ শনিবার ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১২৬ এবং ১৭০ নম্বর ধারায় অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজই তাঁকে বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ অ্যাক্টের ৬৫ নম্বর ধারায় নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া শেষে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেছেন, অভিজিৎকে কোথায় রাখা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং তাঁর আইনজীবীদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এক্স হ্যান্ডলে রত্না সিং লেখেন, ‘অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের সামনে পেশ করা হবে। কিন্তু তাঁর বর্তমান অবস্থান এখনো অজানা, আইনজীবীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।’
ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গত কিছুদিন ধরেই সরব হয়েছে সিজেপি, বেশ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শুক্রবারের ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলটি ছিল তারই অংশ।
কাস্টডি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরা। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ নাগরিক এবং প্রতিবাদকারীদের কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে দীর্ঘ দিন ধরেই বিনা কারণে মানুষকে আটক করে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হচ্ছে। বর্তমান আন্দোলনের সময় এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদকারীদের ধরে নিয়ে গিয়ে রাতভর বা দিনভর আটকে রেখে পরদিন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া।’
বোরা অবিলম্বে অভিজিৎ দীপকে-সহ আটক বাকি সমস্ত আন্দোলনকারীর মুক্তির দাবি জানান। তিনি যোগ করেন, ‘অভিজিৎকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত। অন্য যাদের বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে, তাদেরও ছাড়তে হবে। এরা প্রত্যেকেই সাধারণ নাগরিক, যারা কেবল ভোটাধিকার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবি তুলছেন। এই ধরনের বেআইনি আটক বা সারা রাত থানায় বসিয়ে রাখার কোনো যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে না।’
গতকাল শুক্রবার প্রতিবাদস্থলে যাওয়ার পথেই অভিজিৎ এবং নেহাকে আটক করে পুলিশ। এরপরই দুই দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, আটক নেতাদের সঙ্গে তাঁদের আইনজীবী বা সহকর্মীদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সিজেপি অভিযোগ করেছে, অভিজিৎকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে এআইএসএ জানায়, নেহা বোরাকে মঙ্গোলপুরীর ‘অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স’-এর কার্যালয়ে একাকী আটকে রাখা হয়েছিল।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সিজেপি বলেছে, দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে এক গোপন ডেরায় নিয়ে গেছে। তাঁর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
