পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দুর্গাপূজায় মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পূজামণ্ডপে। বৃষ্টির মধ্যে অতিরিক্ত ভিড়, হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির জেরে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু দর্শনার্থী। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে মানুষের চাপ আরও বেড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে পেছন দিক থেকে ধাক্কা আসতে থাকলে সামনের সারিতে থাকা অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের ওপর একের পর এক মানুষ পড়ে যাওয়ায় অনেকে নিচে চাপা পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে আটকে পড়া দর্শনার্থীদের উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি তিন বান্ধবীকে নিয়ে মণ্ডপ থেকে বের হচ্ছিলেন। বাইরে বৃষ্টি হওয়ায় অনেকে মণ্ডপের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে প্রবল ধাক্কা আসে। সামনে থাকা দর্শনার্থীরা পড়ে গেলে তাঁদের ওপর অন্যরাও পড়তে থাকেন। তাঁর তিন বান্ধবীও ভিড়ের নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মণ্ডপের অন্য একটি অংশ ভেঙে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। তবে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা
ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসার চাপ বাড়তে থাকে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়। ছুটির কারণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হাসপাতালে না থাকলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের অনেকে হাসপাতালে পৌঁছান, বাকিরা পথে ছিলেন। খবর পেয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালে যান।
দুর্ঘটনার পর চোরবাগান সর্বজনীনের পূজামণ্ডপ আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে। কীভাবে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত জায়গা ছিল কি না, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং বৃষ্টির সময় দর্শনার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
কলকাতায় দুর্গাপূজার সপ্তমীর সন্ধ্যায় সাধারণত দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম হয়। এ সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নির্গমনপথ খোলা রাখা এবং দুর্ঘটনার মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা উৎসবের ভিড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার।
