মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মণিপুরে দুই মেইতেই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে বন থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় তাঁরা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে নিহতদের লাশ মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের ইম্ফলের বাসভবনের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নিহতদের লাশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রেখে বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েক দফায় কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত দুজনের নাম অরুবাম রনিল (৩৫) ও লায়েরেনলাকপাম ইনাওবি (৫১)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সোমবার সকালে ১৪ জনের একটি দল জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য পাহাড়ি এলাকায় যায়। ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পরে নিহতদের লাশ জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। বিক্ষোভ চলাকালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মণিপুরে আরও কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মণিপুর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক লহরি দর্জি লহাতু জানান, ১৮ অক্টোবর রাতে থৌবাল জেলার খাংগাবোক পালি বাজারে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে খাংগাবোক ও সাংগাকফাম এলাকার বাসিন্দারাও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।
রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তি রাজ মেডিসিটিতে মারা যান। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, আসাম রাইফেলস ও রাজ্য পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ছাড়া সিংজামেই থানার কাছে কাকওয়া লামদাইবুং লাম্পা এলাকায় একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) তিন সদস্য গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
