সৌরভ-রাঙ্কাদের ছাড়াতে দিল্লি হাই কোর্টে সিজেপি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মুক্তির দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দলটির আইনজীবীরা। তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানোর স্পেশাল এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেছেন তাঁরা। আদালতের ছুটির মধ্যেই মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন আইনজীবীরা।
সোমবার স্পেশাল এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ ও রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানোর নির্দেশ দেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই মঙ্গলবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিজেপি।
যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল। পরে দুজনকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তা আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। বর্তমানে সৌরভ ও রাঙ্কা দিল্লির তিহার জেলে রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে দুই নেতার মুক্তির দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করেন আইনজীবী অভীক চিমনি। সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানান।
রত্না সিংহের দাবি, সৌরভ ও রাঙ্কাকে আর কারাগারে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি লেখেন, ‘আমরা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি এবং রাতে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়েছি। সৌরভ ও রাঙ্কার আর এক মিনিটও গারদের পেছনে থাকার কথা নয়। রাজনৈতিক খেলার কারণে তাঁদের স্বাধীনতা খর্ব করা উচিত নয়। ন্যায়বিচারের জন্য যেন অপেক্ষা করতে না হয়।’
আরও পড়ুন: ইতালিতে সংঘর্ষ-লুটপাট, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি
এর আগে গত ১০ অক্টোবর ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে দিল্লি পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় আগেভাগেই ট্রেন ও মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
১০ অক্টোবর সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছালে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকেকে বিমানে উঠে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। নির্দিষ্ট বন্ডে সই করিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল, এক বছর তাঁরা শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না।
এরপরও দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। যন্তর মন্তরে সব ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরদিন সৌরভ ও রাঙ্কা লোহার গেট টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন এবং জাতীয় পতাকা উড়িয়ে স্লোগান দেন। এ ঘটনায় তাঁদের আবারও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দুই নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তাঁদের আচরণে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি।
সূত্র: আনন্দবাজার, এই সময়।
