মোদির বাসভবনের পাশে ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ এএম
সংগৃহীত ছবি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এলঅ্যান্ডডিও)। মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন’ উল্লেখ করে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের বরাতে দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রেসকোর্স মসজিদের নাম রয়েছে। তবে গত ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায় ও মসজিদে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
এলঅ্যান্ডডিওর দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে স্থাপনাটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ
ঐতিহাসিক মসজিদ ও এর সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এ বিষয়ে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ, ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল
প্রতিনিধি দলের সদস্য মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানান, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকা—দুটিতেই মসজিদটির উল্লেখ রয়েছে।
আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভাঙা বা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও এনডিএমসির কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ওয়াকফ বোর্ডের বিরুদ্ধে ইমামের অভিযোগ
দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেসকোর্স মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন এক ভিডিও বার্তায় দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, গত ছয় মাস ধরে বোর্ডের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি।
ইমাম বলেন, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে একটি চিঠি দেওয়া ছাড়া ওয়াকফ বোর্ড আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মসজিদে প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় এখন সেখানে খাবার পানিও নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ওয়াকফ বোর্ডকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এমনকি নিজে মামলা করার অনুমতি চাইলেও বোর্ড তাঁকে সেই অনুমতি দেয়নি।
ইমাম মোহাম্মদ হারুনের দাবি, ২০২১ সালে পরিচালিত একটি সরকারি জরিপেও মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন’ বা ‘জবরদখল করা স্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ওয়াকফ বোর্ডের সহযোগিতা না পাওয়ায় নিজেকে অসহায় মনে করছেন বলেও জানান তিনি। মসজিদটি রক্ষায় সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন ইমাম। তবে তাঁর এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মোদির বাসভবন এলাকায় চলছে উচ্ছেদ অভিযান
রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নোটিশকে মোদির সরকারি বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হিন্দুস্তান গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের স্বার্থে ওই এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদে সম্মতি দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেখানকার বাসিন্দাদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন কলোনিতে সরিয়ে নেওয়া হবে।
পুনর্বাসন এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তবে ঐতিহাসিক মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি, সরকারি জমিতে নির্মাণের অভিযোগ এবং উচ্ছেদসংক্রান্ত আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
