নির্বাচনের ফল প্রকাশে দেরি, পাকিস্তানজুড়ে পিটিআইয়ের বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৫২ পিএম
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ফলাফলের দাবিতে পাকিস্তানের পেশোয়ারে বিক্ষোভ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের সমর্থকরা। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির ১৬তম সাধারণ নির্বাচনে ইতিমধ্যেই জয়ের দাবি করেছেন। আর এবার ইমরানের দল সমর্থিত প্রার্থীরা সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন।
একইসঙ্গে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলে সমর্থকদের বিক্ষোভে নামারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পাকিস্তানের কারাবন্দি বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল সমর্থিত প্রার্থীরা সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের মোট আসন সংখ্যা ২৬৬টি। এর মাঝে ২৫৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলেছে, ফলাফল ঘোষণা করা ২৫৬টি আসনের মধ্যে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯৩টি আসনে জয়ী হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৩টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টিও ৫৪টি আসনে জয় পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাকিগুলো ছোট কিছু দল জিতেছে।
মূলত ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) দল হিসাবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের নির্বাচনী প্রতীকও ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিলো। আর এ কারণেই ইমরান খানের দলের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এদিকে ইমরান খানের শত শত সমর্থক পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে দলের দুই নেতার নেতৃত্বে সমাবেশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও তাদের পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস করা, দুর্নীতি, ‘বেআইনি বিয়ের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং কারাবাস সত্ত্বেও বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের লাখ লাখ সমর্থক তাকে ভোট দিতে এসেছিল। যদিও কারাগারে থাকাকালীন ইমরান কোনো সরকারের অংশ হতে পারবেন না।
মূলত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয় (বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে ২৬৫টি আসনে)। আর ৭০টি আসন সংরক্ষিত। এর মধ্যে ৬০টি আসন নারীদের ও ১০টি আসন অমুসলিম প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
আর পাকিস্তানের নির্বাচনী আইনের অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পেতে পারে না। মূলত ৭০টি আসন দলীয় শক্তি অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে ২০টি আসন পেতে পারে নওয়াজ শরিফের দল।
ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মিডিয়া উপদেষ্টা জুলফি বুখারি রয়টার্সকে বলেছেন, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরের দিনই ঘোষণা করা হবে যে, কোন দলীয় ব্যানারে তারা স্বতন্ত্রদের যোগ দিতে বলবে। মূলত পাকিস্তানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেরাই সরকার গঠন করতে পারে না এবং তাদের কোনও একটি দলে যোগ দিতে হবে।
বুখারি এক হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস বার্তায় রয়টার্সকে বলেছেন, ‘জয়লাভ করা স্বতন্ত্র এসব প্রার্থীদের অন্য কোথাও যাওয়ার ভয় আমাদের নেই, কারণ তারাই সেই মানুষ যারা গত ১৮ মাস ধরে সংগ্রাম করেছে এবং সব ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছে।’
