শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বোমা হামলা, নিহত ১৭
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৬:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজা উপত্যকাজুড়ে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে কমপক্ষে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে। খবর আনাদোলুর।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, মধ্য গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে আল-রায়ি এবং আল-মাদউন পরিবারের দুটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করেছে মেডিকেল দলগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, ট্যাংক থেকে রাফার বিভিন্ন এলাকায় বোমা হামলা চালানো হচ্ছে এবং একযোগে বিমান থেকেও হামলা চালানো হচ্ছে। মে মাসে আগে থেকেই এখানে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিল। ইসরায়েল বাহিনী নতুন করে এখানে হামলা চালানোর পর অনেক শরণার্থী উত্তরঅঞ্চলে পালিয়ে গেছে। একটি চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে রাফার বাসিন্দা এবং ছয় সন্তানের বাবা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল রাফায় অনরবত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েল ট্যাংকগুলো রাফার তেল আল সুলতান, আল ইজবা এবং জুরুব এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া মিশর সীমান্ত এলাকায় রাফাহ ক্রসিং এলাকাতেও অভিযান চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় অন্তত ২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত ৭ অক্টোবর থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এমন নিহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার শিশু এবং ৯ হাজার নারী রয়েছেন।
এছাড়া ২০ হাজারের বেশি নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৮৫ হাজার ৪৫২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আরো পড়ুন : 'এখনই যুদ্ধ বন্ধ করুন, নয়তো সব জিম্মি মারা পড়বে'
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, অনেক ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ইসরায়েলের অবিরত বিমান ও স্থল হামলার কারণে অনেক জায়গায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো পৌঁছাতে না পারায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ রয়েছে বলেও জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এদিন ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।
সাত মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে, যা গত ৭৫ বছরে ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জাতিসংঘের মতে, গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা ইসরায়েলি আক্রমণে বাস্তুচ্যুত এবং তাদের সকলেই খাদ্য নিরাপত্তাহীন। গাজায় ত্রাণ সরবরাহ কমেছে প্রায় অর্ধেক।
অন্যদিকে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।
