বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, ১৪১ পুলিশ সদস্য আহত-গ্রেপ্তার দু’শ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত করের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রোববার আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববারের বিক্ষোভে ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত কর আরোপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনি ও রোববারের বিক্ষোভে মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ মানুষ অংশ নেন।
মিলানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইতালির সামরিক পুলিশের একটি গাড়িও ধ্বংস করা হয়।

আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ায় স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্ত ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন আগামীকাল
বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর বরাত দিয়ে স্কাই টিজি২৪ জানিয়েছে, গত দুই দিনের বিক্ষোভে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রোলবোমা হিসেবে পরিচিত ‘মলোটভ ককটেল’ বহনের অভিযোগে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বোলোনিয়ায় রেলস্টেশনের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণগুলো বোধগম্য হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা এবং শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও বিক্ষোভের নামে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যারা সহিংসতার অজুহাত হিসেবে বিক্ষোভকে ব্যবহার করছে, তাদের থেকে ইতালির তরুণ-তরুণীদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তাঁর দল ‘লিগ’ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে। প্রস্তাবটি অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের নিশ্চয়তা হিসেবে আয়োজকদের আর্থিক জামানত দিতে হবে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের নামে সংঘটিত সহিংসতার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে মেলোনি স্বীকার করেছেন, হাজার হাজার মানুষ এসব বিক্ষোভে শান্তিপূর্ণভাবেও অংশ নিয়েছেন।
