‘হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
বিচার ও শিক্ষা বিভাগে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণ বেড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় অস্বীকার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথেই হাঁটছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও হাসিনা সরকারের মতো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াত আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। গাজীপুরের উচিং শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াত আমির বলেন, গত নির্বাচনের আগে একটি দল প্রচার করেছিল, নির্বাচন হয়ে গেলেই দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এখন সমস্যাগুলো দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দেশে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। অথচ বৈষম্য দূর হওয়ার পরিবর্তে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াত ও তরুণ সমাজ শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ, লুটতরাজ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ উপেক্ষার কারণে মুসলিম বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে ক্ষমতা আরেক লুটেরার হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মেলনে রুকনদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ইসলামী চেতনা ধারণের পাশাপাশি নিজেদের নফস ও পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সমাজের মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে এবং উত্তম আমলের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করতে হবে।
তিনি সুদকে সর্বাবস্থায় হারাম উল্লেখ করে ইসলামের আদর্শ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উত্তম আচরণ অনুসরণের আহ্বান জানান।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। এ সময় দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীরা ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।
