×

আইন-বিচার

কোর্টে কিল-ঘুষি, আইনজীবী না থাকলে কী হবে মামলার?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০২:৪২ পিএম

কোর্টে কিল-ঘুষি, আইনজীবী না থাকলে কী হবে মামলার?

ছবি : সংগৃহীত

প্রচণ্ড জনরোষে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন উপদেষ্টা, তিনজন সাবেক মন্ত্রী, দুইজন প্রতিমন্ত্রী, সংসদের ডেপুটি স্পিকার, একজন উপমন্ত্রী এবং অন্তত দুইজন এমপি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের এমপিদের বিরুদ্ধে সারাদেশে বহু মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যারা আটক হয়েছেন তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হচ্ছে। সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, আদালত প্রাঙ্গণে দলটির নেতাদের ওপরও তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেন কেউ কেউ।

গত মঙ্গলবার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে পুলিশ পাহারার মধ্যেই কিল-ঘুষি দেয়ার ঘটনা ঘটে। ওইদিনই দীপু মনিকে চারদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আইনি অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলায় বিশেষ করে নারীদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় সেদিনই। এক্ষেত্রে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিও জানায় তারা।

আরো পড়ুন : সাভারে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরেক হত্যা মামলা

সংবাদমাদ্যম বিবিসি বাংলাকে কয়েকজন আইনজীবী জানান, যেসব ফৌজদারি মামলায় সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে, সেগুলোতে তাদের বিচার করে শাস্তির আওতায় আনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তে পারে। মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে এই আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। একইসাথে এসব হত্যা মামলায় আসামি অজ্ঞাতনামা দেখানো হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলেও আদালত প্রাঙ্গণে হামলা এবং মামলার ক্ষেত্রে একই ধরনের অসঙ্গতির প্রবণতা দেখা গিয়েছিল বলে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এসব বিচার নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ থেকে যাবে বলে ধারণা তাদের।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ওই মামলায় আদালত দীপু মনির চার দিনের এবং জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আনা নেয়ার সময় আদালতে প্রাঙ্গণে আইনজীবীসহ উপস্থিত লোকজনের ক্ষোভের মুখে পড়েন তারা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের বেষ্টনীর মধ্যেই তাদের গায়ে কিল-ঘুষি দিচ্ছেন বিক্ষুব্ধরা। দীপু মনির শাড়ির আঁচল টেনে ধরার ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনাকে 'মব জাস্টিস' হিসেবে উল্লেখ করে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, জাস্টিস নিশ্চিত করা এবং মব জাস্টিস এক নয়। দুটি জিনিসকে আলাদা করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে মব জাস্টিস কেন? নিরাপত্তা দিতে না পারলে অন্য ব্যবস্থা নিয়ে তাদেরকে কোর্টে হাজির করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, শারীরিক আক্রমণের সঙ্গে জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে 'প্রোফেশনালি' ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এ বিষয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ নুুরুল হুদা বলেন, ওপেন কোর্টে এভাবে আসামিকে নিয়ে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না। তাদের নিরাপত্তার দিকটাও চিন্তা করার বিষয় আছে। এখানে দুর্ঘটনাও তো ঘটে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত থাকা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরো পড়ুন : চিত্রনায়ক ফেরদৌসের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

নিরাপত্তা বাহিনীর বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ক্ষোভ থাকতে পারে, তাই বলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত না যেটা ন্যায় বিচারকে ব্যাহত করে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মামলায় তাদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে সেদিন আদালতে তাদের পক্ষে কারো দাঁড়ানোর মতো অবস্থা ছিল না। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না রাষ্ট্রপক্ষ বা আওয়ামী লীগপন্থী কোনো আইনজীবী।দীপু মনির পক্ষে একজন আইনজীবী কথা বলার চেষ্টা করলেও অন্য আইনজীবীদের তোপের মুখে তিনি কথা এগিয়ে নিতে পারেননি।

এ বিষয়ে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া একটি সাংবিধানিক অধিকার। এতে বাধা দেয়া অনৈতিক। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কারো মামলা নাই নিতে পারেন। কিন্তু সম্মিলিতভাবে আইনি সহায়তা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যদি কেউ আইনজীবী নিয়োগে বাধা দেয় তা বেআইনি। এটাকে আমি বাধা দেবো। যদি অভিযুক্তদের পক্ষে একান্তই কোনো আইনজীবী না পাওয়া যায়, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দেয়ার বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে, হত্যা মামলার আসামির হয়ে লড়বেন রাষ্ট্রপক্ষের কোনো আইনজীবী।

তিনি আরো বলেন, আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার স্টেজ এখনো আসেনি। চার্জশিট দেয়ার পর ট্রায়াল শুরু হলে সরকার যদি দেখে কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা আছে, তাহলে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) দেয়া হবে।

টাইমলাইন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দাম্মামগামী ৩ দিনের ফ্লাইট স্থগিত, রিয়াদ রুট বন্ধ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

দাম্মামগামী ৩ দিনের ফ্লাইট স্থগিত, রিয়াদ রুট বন্ধ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

শুধু টাইগার নয়, নজরদারিতে ছিলেন সালমান আমির ও রণবীর

শুধু টাইগার নয়, নজরদারিতে ছিলেন সালমান আমির ও রণবীর

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্য প্রকাশ ও আইনি সহায়তার দাবি

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্য প্রকাশ ও আইনি সহায়তার দাবি

‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’ তে কাজ করতে চান বিদ্যা বালান

‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’ তে কাজ করতে চান বিদ্যা বালান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App