×

আইন-বিচার

আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে শিশির মনিরের চিঠি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে শিশির মনিরের চিঠি

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। বুধবার (২২ জুলাই) আইন সচিবের মাধ্যমে তিনি এ আবেদন জমা দেন।

আবেদনে তিনি বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থায় প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং ন্যায়বিচার পেতে বিলম্ব হচ্ছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলেও বিচারপতির নির্দিষ্ট সংখ্যা সংবিধানে উল্লেখ নেই। সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন।

শিশির মনির জানান, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর চারজন বিচারপতিকে নিয়ে আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সে সময় বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৬টি এবং দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৪৩ লাখ।

বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখ এবং আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টিতে পৌঁছেছে। কিন্তু বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা রয়েছে মাত্র চারজন।

সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতির অধীনে বিচারাধীন মামলা ছিল ৫ হাজার ২৬০টি। ২০১১ সালে ১০ জন বিচারপতির বিপরীতে মামলা ছিল ১২ হাজার ৪৪১টি। ২০১৩ সালে ১০ জন বিচারপতির সময়ে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয় ১৪ হাজার ৩৩৮টি। ২০১৭ সালে ৯ জন বিচারপতির অধীনে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৬ হাজার ৫৬৫টি। ২০২২ সালে ৯ জন বিচারপতির বিপরীতে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৯২৮টি। আর ২০২৪ সালে আপিল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন আটজন, কিন্তু বিচারাধীন মামলা বেড়ে হয় ৩১ হাজার ১২০টি। অর্থাৎ মামলার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে বিচারপতির সংখ্যা বাড়েনি।

আবেদনে শিশির মনির বলেন, বর্তমানে আইনের বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন প্রয়োজন হলেও বিচারপতির স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী ভারত গত ১৬ মে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ করা হয়েছে।

সবশেষে তিনি বিচারাধীন মামলার জট কমিয়ে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাত পোহালেই ১১ দলের লংমার্চ

রাত পোহালেই ১১ দলের লংমার্চ

হঠাৎ আবারও কেন আলোচনায় ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’

হঠাৎ আবারও কেন আলোচনায় ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’

ডিবি কার্যালয়ে সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন সারজিস

ডিবি কার্যালয়ে সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন সারজিস

পে-স্কেলের নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

পে-স্কেলের নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App