ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ আগারওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার তিন দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এসআই মো. আশরাফুল হাসান মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার সুনির্দিষ্ট ঘটনা উদ্ঘাটন, সোনা ও হীরার প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অর্থ পাচারের পরিধি নির্ধারণে দিলীপ আগারওয়ালাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবীর বাবুল রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দিলীপ আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দিলীপ কুমার আগারওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাচালানে জড়িত ছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার এবং অলংকারে বসানোর উপযোগী হীরা বৈধভাবে আমদানি করা হয়। অথচ একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতিতে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহ করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি
সিআইডির অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এসবের উৎস ও সরবরাহকারীদের বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এসব সোনা ও হীরা অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাব। ওই দিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালানো হয়।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামের এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
