জুমার দিন যে আমল বেশি করতে বলেছেন মহানবী (সা.)
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ফাইল ছবি
মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন শুক্রবার। এটি আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)
শুক্রবারের প্রধান আমল জুমার নামাজ আদায় করা। জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)
ফজিলতপূর্ণ এ দিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বেশ কিছু আমল করতেন। সাহাবিদেরও সেসব আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, দ্রুত মসজিদে যাওয়া, মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা, গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা, দোয়া করা এবং বেশি বেশি দরুদ পড়া ইত্যাদি।
উল্লিখিত আমলের মধ্যে বেশি বেশি দরুদ পড়ার কথা বলেছেন মহানবী (সা.)। কারণ, জুমার দিনের এ বিশেষ আমলটি তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন যেভাবে
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ার অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ (রহমত) পাঠ করেন। হে ইমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)
এখানে দশটি দরুদ উল্লেখ করা হলো—
১. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১২৯২)
২. উচ্চারণ: ‘সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ।
অর্থ: আল্লাহ মুহাম্মদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনান নাসায়ি, হাদিস: ১৭৪৬)
৩. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি উম্মি (নিরক্ষর) নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯৮১)
৪. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।
অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি রহমত বর্ষণ করো তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এবং সব মুমিন নারী-পুরুষ ও মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৬৪৪)
৫. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনজিলহু মাকআদাল মুকাররাবা, ইনদাকা ইয়াওমাল কিয়ামাতি।
অর্থ: হে আল্লাহ, তাঁকে তুমি কেয়ামতের (কেয়ামতের) দিন তোমার কাছে মর্যাদাপূর্ণ জায়গা দিয়ো। আমার সুপারিশ তার জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ৯৩৬)
৬. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৬৮)
৭. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা।
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিমের ওপর।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১২২৬)
৮. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি, ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ফিল আলামিনা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে বরকত অবতীর্ণ করো যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৭৩৮)
৯. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, আবদিকা ওয়া রাসুলিক, কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা।
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার বান্দা এবং রাসুল মুহাম্মদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের পরিবার-পরিজনের ওপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিমের ওপর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭৯৮)
১০. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদি নিন্নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, নিরক্ষর নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৭০)
