লো ব্লাড প্রেসার
কখন এটি ঝুঁকির কারণ, কী বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ অনেক সময় ক্ষতিকর মনে না হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তচাপ কম থাকাটা কিছু মানুষের জন্য স্বাভাবিক হলেও, অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরে থাকা অন্য কোনো জটিল সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
সাধারণভাবে, কারও রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে নেমে যায়, তখন তাকে নিম্ন রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন বলা হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে এটি সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। অনেকেই কোনো উপসর্গ ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, আবার কারো ক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপোটেনশনের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে। অ্যাবসোলিউট হাইপোটেনশন, যেখানে বিশ্রামকালীন রক্তচাপ কম থাকে এবং অর্থোস্ট্যাটিক বা পোস্টুরাল হাইপোটেনশন, যা বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়ানোর পর দীর্ঘ সময় রক্তচাপ কমে থাকার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
নিম্ন রক্তচাপের সাধারণ লক্ষণগুলো—
-মাথা ঘোরা
-শরীর হালকা লাগা
-অতিরিক্ত ক্লান্তি
-অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা
-ঝাপসা দৃষ্টি
-বমিভাব
-মনোযোগের ঘাটতি
-দুর্বলতা অনুভব
-ত্বক ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া (গুরুতর ক্ষেত্রে)
-ভারসাম্যহীনতা
-শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন, পানিশূন্যতা, রক্তক্ষরণ, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা বা পারকিনসন্স রোগ এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া গুরুতর সংক্রমণ (সেপটিক শক) বা তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাকটিক শক) রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায়ও অনেক সময় রক্তচাপ কমে যায়, যা সাধারণত স্বাভাবিক হলেও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, নিম্ন রক্তচাপ তখনই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যখন এর লক্ষণগুলো ঘন ঘন, তীব্র বা হঠাৎ দেখা দেয়। এতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড ও কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে স্ট্রোকের পর যদি রক্তচাপ কম থাকে, তাহলে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই বারবার মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা অনুভব করলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
