গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে মুখ খুললেন নেতানিয়াহু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) আদালত এই পরোয়ানা জারি করার পর নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে আনা রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি এই রায়কে ইহুদিবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, এর কোনো গুরুত্ব নেই।
এদিন ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালেন্টের বিরুদ্ধেও একই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি হামাসের সেনাপ্রধান হোমাম্মেদ ডেইফসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর মানে হলো, এই ব্যক্তিদের যেকোনো দেশ গ্রেফতার করতে পারবে।
হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ গাজার পরিস্থিতি নিয়ে রায় দেওয়ার সময় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গাজার যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা নিয়ে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালেন্ট বলেছেন, হেগের আদালতের এই রায় স্মৃতিতে থেকে যাবে। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল রাষ্ট্র এবং হামাস নেতাদের হত্যাকারী হিসাবে একই রায় একই আসনে বসিয়েছে। গ্যালেন্ট বলেন, হামাসের সহিংসতাকে সমর্থন করা হয়েছে এই রায়ে, যেখানে শিশুদের হত্যা, নারীদের নির্যাতন এবং বৃদ্ধদের বিছানা থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, এই রায় আত্মরক্ষার অধিকারকে মর্যাদা দেয়নি।
রায়ের পক্ষে কানাডা নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডা আন্তর্জাতিক আইন মানতে দায়বদ্ধ এবং তারা এই রায়কে সম্মান জানাবে। তিনি টেলিভিশনে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
যুক্তরাজ্যের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক আইন এবং আদালতকে সম্মান করেন। তবে, নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি পরোয়ানা গ্রহণ করবেন কিনা, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বরেল, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের প্রধানদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তারা এই রায় মানতে দায়বদ্ধ। বরেল এ মন্তব্য করেছেন আদালতের রায় ঘোষণার পর।
এদিকে, হিজবুল্লার সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাব নিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা ইসরাইলে পৌঁছেছেন। সংঘর্ষ বিরতি নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে, তবে তা বারবার ভেস্তে গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় নিয়ে আমেরিকা এখন পর্যন্ত তাদের স্পষ্ট মতামত জানায়নি।
