তুরস্ক-কাতার-ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ সই করেছে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। এর আওতায় যৌথভাবে সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতা জোরদার করবে চার দেশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই চার দেশের মধ্যে এ সমঝোতা হয়েছে।
দোহায় আয়োজিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের। কাতারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান আল থানি। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসজাফরি এসজামসুদ্দিন এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সমন্বয়ে এই সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আওতায় দেশগুলোর মধ্যে সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ, সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। অর্থাৎ, চুক্তিতে অংশ নেওয়া কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে—এমন কোনো আইনি অঙ্গীকার এতে নেই। বরং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণই এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য।
এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। ওই চুক্তিতে ন্যাটোর আদলে এক সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সেদিক থেকে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নতুন সমঝোতাটি মূলত প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে; এতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার কোনো অঙ্গীকার নেই।
