×

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান-হুতির হুমকি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘গোপনে’ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘গোপনে’ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকের আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে লাইভ-ফায়ারিং মহড়া শেষে সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টারে উঠছেন মার্কিন সেনারা। ছবি: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মোতায়েন করা নিজেদের সৈন্যদের ‘গোপনে’ সরিয়ে নিচ্ছে। এ অঞ্চলে নীরবে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনছে। মূলত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্টী হুতি বাহিনীর পক্ষ থেকে চলমান আঞ্চলিক হুমকি ও ইরানের সরাসরি হুমকির কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরব থেকে নিজেদের কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) এ বিষয়ে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বচানের পর পরই ইরানে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী আঘাত হানার মার্কিন পরিকল্পনার খবর ছড়ানোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেনা প্রত্যাহারের এই পদক্ষেপ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ প্রাথমিক বিমান হামলার আগে পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নেওয়া প্রস্তুতির মতোই।

জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদেরও প্রত্যাহার করে অন্যত্র মোতায়েন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিবিএস নিউজ। প্রতিবেদন বলা হয়েছে, এসব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রেখে ওই অঞ্চলে সীমিতসংখ্যক মার্কিন সেনা রাখার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার আগে ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে পেন্টাগন।

সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে সতর্কতা জারির পর সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দূতাবাসগুলো হুতি হামলার কারণে ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য এই সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং জরুরি না হলে দেশগুলো ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে তিনি এতটুকুই বলেছেন, ‘যুদ্ধ প্রস্তুতি সর্বোত্তম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য’ মার্কিন বাহিনীকে নিয়মিতভাবে পুনঃমোতায়েন করা হয় এবং তারা মার্কিন কর্মী ও স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে।

এদিকে একই সময় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও চার দেশ থেকে মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিক, কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হুতি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান হামলার কথা উল্লেখ করে অপ্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ জারি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিক সূত্র ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি-কে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইন থেকেও মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এই দাবি ‘অসত্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগোট।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে পিগোট লিখেছেন, ‘শুধুমাত্র সৌদি আরবে থাকা অ-জরুরি মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্থানের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। ফলে বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে। বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে এবং ভ্রমণ ব্যবস্থা মারাত্মভাবে ব্যাহত হয়েছে।

সিবিএস নিউজের দাবি, তারা জানতে পেরেছে যে, উপসাগারীয় অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি দূতাবাস ‘সীমিত কার্যক্রম’ চালু রেখে জনবল সমন্বয় করেছে। তবে এসব দূতাবাসে ‘আদেশক্রমে কর্মী প্রত্যাহার’ করা হয়নি। এ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই দ্রুত ঘটনাপ্রবাহ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইরানের ওপর নতুন হামলার কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেছেন।

সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, এই প্রস্তাবগুলোতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ও কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জকে লক্ষ্য করে বিমান হামলার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এক হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন আমেরিকানও ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাজেকে গোলাগুলির জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করল পুলিশ

সাজেকে গোলাগুলির জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করল পুলিশ

শুরু থেকেই নিন্দার শিকার হচ্ছি

শুরু থেকেই নিন্দার শিকার হচ্ছি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘গোপনে’ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-হুতির হুমকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘গোপনে’ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App