৩ উপজেলায় হামের বিশেষ টিকাদান, লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ শিশু
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ জেলায় আশঙ্কাজনক হারে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে থাকা সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর উপজেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। এই তিন উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ শিশুকে এই বিশেষ টিকা প্রদান করা হবে। পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ডোজ টিকা মজুত করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সদর উপজেলার চুরখাই ইসলামিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যদিও উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে শুরু হয়, তবে শিশুদের টিকা দিতে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কিছুটা ভোগান্তি হলেও সন্তানদের টিকা দিতে পেরে অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বড়বিলাপাড় থেকে আসা সাজিয়া আক্তার তার দুই যমজ কন্যাকে টিকা দিয়ে জানান, এলাকায় হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। এখন টিকা দিতে পেরে সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পনগাগড়া গ্রামের শামসুন্নাহারও তার একমাত্র ছেলেকে টিকা দিয়ে সরকারের এই দ্রুত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ২২৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৩ জন। উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ১৯ দিনে সংক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের হাম ইউনিটে রোগীর চাপ এতই বেশি যে নতুন রোগী ভর্তি নিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহমেদ শাফি জানান, সারাদেশে ৩০টি উপজেলাকে প্রাথমিকভাবে 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মূলত, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হলেও ময়মনসিংহের বিশেষ পরিস্থিতিতে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলছেন, যারা আগে দুই ডোজ টিকা নিয়েছে, বর্তমান মহামারির ঝুঁকি এড়াতে তাদেরও এই অতিরিক্ত ডোজ নেওয়া জরুরি। এতে শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাড়তি প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত তৎপর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু যেন এই টিকার আওতা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
