শেরপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু-হামের রোগীর ঢল
মশারি-নার্স সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি
খোরশেদ আলম, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
শেরপুরে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ছবি: ভোরের কাগজ
শেরপুরে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কোথাও শয্যা না পেয়ে মেঝেতে, কোথাও বারান্দায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে রোগীদের। প্রয়োজনীয় ওষুধ, মশারি ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এতে চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪৬ জনের বেশি। এ ছাড়া ডেঙ্গু ও হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৬৫ জন। রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন।
শয্যার চেয়ে রোগী বেশি, ঠাঁই হচ্ছে মেঝে-বারান্দায়
হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীর চাপে বিভিন্ন ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড়। হামের রোগীদের জন্য ১৫টি এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৬টি শয্যা থাকলেও রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত শয্যায় সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় মাছ চোর সন্দেহে ঘের ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারের রোগীদের চিকিৎসাব্যয় সামলাতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
মশারি নেই, বাড়ছে সংক্রমণের শঙ্কা
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহার জরুরি হলেও অনেক রোগী মশারি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে খোলা বারান্দা কিংবা মশার প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে— এমন স্থানে অবস্থান করতে হচ্ছে তাঁদের। এতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও রোগীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম থাকায় সময়মতো সেবা পাওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শতাধিক রোগীর সেবায় মাত্র দুজন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বলছেন, রোগীর চাপ বাড়লেও সেই অনুপাতে শয্যা, ওষুধ ও জনবল বাড়ানো হয়নি। দ্রুত শয্যাসংখ্যা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বাইরে থেকে সংক্রমিত হয়ে আসছেন অনেকে
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। চিকিৎসকদের ধারণা, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে সংক্রমিত হয়ে শেরপুরে এসেছেন। একই সঙ্গে জেলাটিতেও স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা, ওষুধ, মশারি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে জেলায় এ পর্যন্ত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে পৃথকভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সামর্থ্য অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনেকেই শেরপুরের বাইরে থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জেলার অভ্যন্তরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
