নির্বাচনী নিরাপত্তা মাঠে র্যাব পুলিশ ও গোয়েন্দারা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০১:২৮ পিএম
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা ও নাশকতা প্রতিরোধ এবং অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছেন। রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ও নাইটভিশন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীর সব রাজপথেই মোটরসাইকেল ও পিকআপে র্যাবের টহল দেখা গেছে। রাস্তায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সহিংসতা চালাতে পারেÑ এমন আশঙ্কার কারণেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরো জোরদার হবে।
গত দুই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অসংখ্য পুলিশ সদস্যকে সতর্ক অবস্থায় যানবাহন ও পথচারীদের ওপর নজর রাখতে দেখা গেছে। থানা পুলিশের সদস্যদের পিকআপ টহলও অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি ছিল। নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় ছিল এলিট ফোর্স র্যাব সদস্যদের সরব উপস্থিতি। কখনো ৮/১০টি মোটরসাইকেলে আবার কখনো ৬/৭টি গাড়িতে হুইসেল বাজিয়ে র্যাব সদস্যদের টহলের দৃশ্য নগরীর অনেক স্থানেই চোখে পড়েছে।
রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রাথমিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতের বেলায় রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শহরজুড়ে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে গোয়েন্দা পুলিশের টিমগুলোর তৎপরতা জোরদার করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সহিংসতার চেষ্টা চালাতে পারে এমন সন্ত্রাসীদের তালিকা ও গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে সহিসংতা ও নাশকতা চালিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াত-বিএনপি পেট্রলবোমা সন্ত্রাস চালিয়েছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি হতে দেয়া হবে না। এ কারণে গোয়েন্দারা সতর্ক রয়েছে এবং আগেভাগে মাঠে নেমেছে।
র্যাব সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাব। র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মূলত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে র্যাবের টহলসহ সব ধরনের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। হঠাৎ করে রাস্তায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি হলে জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি যেন না ঘটে সে জন্যই র্যাবের সবগুলো ইউনিট ও গোয়েন্দা উইংয়ের সদস্যদের সতর্ক থাকতে এবং রাস্তায় টহল জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ শহরে টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চলবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একইভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, খুলনা বিভাগের সব জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। এ ব্যাপারে গত সপ্তাহে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভা থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার পরে দেশের প্রধান বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামেও গতকাল থেকে একইভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিভাগের সব জেলায় পুলিশকে বিশেষ সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। র্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে সে জন্য র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে নাশকতা প্রতিরোধে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনীসহ জেলার সড়কগুলোতে নাশকতা প্রতিরোধে র্যাব সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।
