ঢাকায় সমাবেশ করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের নামে দেশব্যাপী হত্যা, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল তিনটায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, শ্রমিক কর্মচারী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীরা অংশগ্রহণ করবেন।
বুধবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক সংসদ সদস্য শাজাহান খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বক্তব্য রাখবেন।
শাহজাহান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি দিচ্ছে কোনো গোষ্ঠী বা মহল। একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক মহল শিক্ষার্থী ও জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা করছে। সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্রীদের মনে রাখতে হবে, একটি বিশেষ মহল এই আন্দোলনের উপর ভর করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তাদের অসৎ উদ্দেশের যেন সফল না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এই মিথ্যাচার করে কোটাবিরোধীরা নিজেদের বলেছেন, রাজাকার! কত বড় দুঃসাহস! এই স্লোগানের মাধ্যমে নিজের চরিত্র তারা প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কেউ বাধা দেইনি। কিন্তু যখন রাজাকার স্লোগান দিয়ে ভাংচুর চালিয়েছে, তাণ্ডব চালিয়েছে, তখন তার চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখেছি। মির্জা ফখরুল ইন্ধন দিয়েছেন। তাদের লাশ দরকার ছিল। আর এজন্যই অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেছে। এখন আর বসে থাকার সময় নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, ৫৩ বছর পর যারা বাংলার মাটিতে রাজাকার স্লোগান দেয়, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এরচেয়ে লজ্জার কিছু নেই। আজ বিএনপি গায়েবানা জানাজা দিয়েছে। এর মানে আন্দোলনে কারা? এই আন্দোলন আর ছাত্রদের হাতে নেই। আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। রাজাকারে ঠাঁই নেই।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, কোমলমতি ছাত্ররা আন্দোলন করছে। ছাত্রদের প্রতি সহনভূতির কোনো কমতি ছিল না। আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা দেওয়ার পর এখন কোটা নেই। তারপরও আন্দোলন কেন?
তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন বিচার বিশ্লেষণ করে রায় দেবেন। ৭ আগস্ট শুনানি হবে। কিন্তু গত দুইদিন বিএনপি-জামাত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কোটা আন্দোলনের নামে সরকার বিরোধী আন্দোলনেরে নেমেছে। বিএনপি-জামায়াত, শিবির সরাসরি নেমেছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। কঠিন অবস্থা। আমাদের সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আমরা তাদের প্রতিহত করবই।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ দেশ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য বেনজীর আহমেদ এমপি বলেন, আমাদের সামনে আরেকটি যুদ্ধ। আমাদের নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে, আবার একাত্তরের মতো পরিস্থিতি হবে। এই বাংলাদেশ আরেকবার স্বাধীনতাবিরোধীদের কব্জায় যাক, এটা হতে দেয়া যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খান, এ বি এম সুলতান আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
