দেশ ছাড়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় যা যা বললেন শেখ হাসিনা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৪, ১০:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গণআন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যাওয়ার পর প্রথম দেয়া একটি বিবৃতিতে ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন করার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোয় দেশবাসীর কাছে বিচার চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাতে ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা একটি বার্তায় শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের প্রতি শ্রজ্ঞা জ্ঞাপন করেন।
তিনি লিখেছেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনে যে নারকীয় হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, সেই স্মৃতি বহনকারী বাড়িটি আমরা দুই বোন বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করেছিলাম। গড়ে তোলা হয়েছিল স্মৃতি জাদুঘর। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশ বিদেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই বাড়িতে এসেছেন। স্বাধীনতার স্মৃতিবহনকারী এই জাদুঘরটি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী লেখেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়; যে স্মৃতিটুকু বুকে ধারণ করে আপনজন হারাবার সব ব্যথা বেদনা বুকে চেপে রেখে বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার লক্ষ্য নিয়ে প্রিয় দেশবাসী আপনাদের সেবা করে যাচ্ছি। সেটার শুভ ফল ও আপনারা পেতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। আজ তা ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। আর যে স্মৃতিটুকু আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন ছিল তা পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা লেখেন, চরম অবমাননা করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি, যার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা পেয়েছি, আত্মপরিচয় পেয়েছি, স্বাধীন দেশ পেয়েছি। লাখো শহীদের রক্তের প্রতি অবমাননা করেছে। আমি দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।
তিনি লিখেছেন, আপনাদের কাছে আবেদন জানাই যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট পালন করুন। বঙ্গবন্ধু ভবনে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত করে সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করুন।
১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে আন্দোলনের সময় যারা হতাহত হয়েছেন, সেসব ঘটনায় দোষীদের বিচার দাবি করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত জুলাই থেকে আন্দোলনের নামে যে নাশকতা, অগ্নিসন্ত্রাস ও সহিংসতার কারণে অনেক তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ এমন কি অন্তঃসত্তা নারী, পুলিশ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সেবী, কর্মজীবী মানুষ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, পথচারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যারা সন্ত্রাসী আগ্রাসনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের প্রতি শোক জ্ঞাপন করছি। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। স্বজনহারা বেদনা নিয়ে আমার মতো যারা বেঁচে আছেন তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।
তিনি আরো লেখেন, আমি এই হত্যাকাণ্ড ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি। গত ৫ আগস্ট প্রবল গণআন্দোলনের মুখে দেশ থেকে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি।
