×

জাতীয়

সংবিধান সংশোধন নাকি পুনর্লিখন, বিতর্ক তুঙ্গে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৪৪ পিএম

সংবিধান সংশোধন নাকি পুনর্লিখন, বিতর্ক তুঙ্গে

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। তবে এই সংস্কার হবে সংশোধন নাকি পুনর্লিখন, তা নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ৬টি খাতের সংস্কারের জন্য কমিশন করেছে, যার মধ্যে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। এ সংক্রান্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।

সংবিধান পুনর্লিখনের পক্ষে যারা রয়েছেন, তাদের যুক্তি হলো— এত বেশি সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান তার মূল কাঠামো হারিয়েছে। ফলে এটি সংশোধনের চেয়ে নতুন করে লেখা উচিত। এর বিপরীতে সংশোধনের পক্ষে থাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে লেখা হলে ভবিষ্যতে আবারো প্রণয়নের দাবি উঠতে পারে, এতে জটিলতা বাড়বে। নতুন সংবিধান লেখার সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। খবর ডয়েচে ভেলের

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সংবিধানের বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখার বিধান এবং বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান মনে করেন, সংবিধানে ‘সেপারেশন অব পাওয়ার’ বা ক্ষমতার পৃথকীকরণের বিষয়টি স্পষ্ট করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। এছাড়া, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাও দীর্ঘদিনের।

অধ্যাপক শেখ হাফিজুর বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এত বেশি ক্ষমতা দেয়া যাবে না, যাতে তিনি স্বৈরাচার হয়ে উঠতে পারেন। নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন, যা আমাদের সংবিধানে নেই।

অনেক বিশেষজ্ঞ নতুন সংবিধান লেখার বিপক্ষে। তারা মনে করেন, সংবিধান নতুন করে লেখা হলে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী হতে পারে। অধ্যাপক শেখ হাফিজুর বলেন, আমাদের সংবিধান মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন সম্ভব, কিন্তু পুনর্লিখনের প্রয়োজন নেই।

তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক মনে করেন, সংবিধান এত বেশি কাটাছেঁড়া করা হয়েছে যে, এটাকে নতুন করে লেখা উচিত। ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৪৭টি সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে, এতে সংবিধান তার মূল চরিত্র হারিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ সংবিধানে এমন কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থা নেই। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া সংবিধানে কোনো রকম হাত দেয়া হলে তা সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদের মতে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল হতে পারে।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, এই সরকার ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে, তাই সংবিধান সংশোধনের ম্যান্ডেট রয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে নতুন সংবিধান গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরো পড়ুন: শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান কি ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। সংবিধান পুনর্লিখন হবে নাকি সংশোধন করা হবে, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা জারি থাকবে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসব পরিবর্তন গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হবে।

ডয়েচেভেলে বাংলা অবলম্বনে।

টাইমলাইন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু

গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনের

ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনের

‘মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় নয়’

‘মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় নয়’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App