×

জাতীয়

আওয়ামী লীগ নিয়ে হাইকোর্ট হাসনাত-সারজিসের দুই রিট

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০৪ পিএম

আওয়ামী লীগ নিয়ে হাইকোর্ট হাসনাত-সারজিসের দুই রিট

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সোমবার (২৮ অক্টোবর) এ রিট দায়ের করেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, দলটি রাজনৈতিক কার্যক্রম যাতে পরিচালনা করতে না পারেন সেজন্য এ রিট করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে দুটি রিট করা হয়েছে। 

একটি হলো, আওয়ামী লীগের বিগত ৩টি নির্বাচনকে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধভাবে প্রাপ্ত সুবিধাগুলো কেন ফিরিয়ে দেবে না সে বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত কেন তাদের (আওয়ামী লীগ) পলিটিক্যাল সব এক্টিভিটি থেকে বিরত রাখা হবে না সে বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে দ্বিতীয় রিট করা হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি সিকদার মো. মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে।

পৃথক ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম রিটের বিষয় জানিয়েছেন। তারা লিখেছেন, আজকে ২টি রিট করেছি। ১. আওয়ামী লীগের বিগত ৩টি নির্বাচনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধভাবে প্রাপ্ত সুবিধাগুলো কেন ফিরিয়ে দেবে না সে বিষয়ে প্রথম রিট। ২. এই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত কেন তাদের পলিটিক্যাল সব এক্টিভিটি থেকে বিরত রাখা হবে না সে বিষয়ে দ্বিতীয় রিট। দল হিসেবে নিষিদ্ধ কিংবা নিবন্ধন নিষিদ্ধের কোনো কথা রিটে নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।

এর আগে  বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গত ২৩ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৫ বছর দেশ শাসন করা আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধের দাবি রয়েছে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নেয়া কোনো কোনো পক্ষের। কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে ‘নির্বিচারে হত্যার’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল এবং ক্ষমতাচ্যুত দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত অগাস্ট মাসেও একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। ‘সারডা সোসাইটি’ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আরিফুর ওই আবেদন করেছিলেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সেটি খারিজ করে দেয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সে সময় শুনানিতে বলেছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের। সংবিধানে রাজনৈতিক দল পরিচালনার যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তা খর্ব করবে না সরকার। বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের অনেক অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছে মানুষ। অনেক গুম-খুন হয়েছে। সেগুলোর বিচারের জন্য আইন ও আদালত রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের অনেক ভালো নেতাকর্মীও রয়েছেন, তারা দলের মতাদর্শ ধারণ করেন। এজন্য দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। তাদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার ইচ্ছা এ সরকারের নেই।

আর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমি না, যদি না কোনো জঙ্গিবাদী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় তারা লিপ্ত থাকে।সত্যিকার অর্থে যদি কোনো রাজনৈতিক দল জঙ্গিবাদী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় জড়িত থাকে, তাহলে প্রচণ্ড সততার সঙ্গে তদন্ত করে এমন কিছু (নিষিদ্ধ) করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বর্বরতম ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ। এই কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তিগত দায় থাকতে পারে, নেতাদের সামষ্টিক দায় থাকতে পারে, কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন নিয়ে বিরোধী দলকে বৈঠকে আসার ডাক

নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন নিয়ে বিরোধী দলকে বৈঠকে আসার ডাক

২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশ

২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশ

ব্যাটিং কোচের পদ থেকে সরানো হলো আশরাফুলকে

ব্যাটিং কোচের পদ থেকে সরানো হলো আশরাফুলকে

ছয় মাসের রেকর্ড ভাঙল জ্বালানি তেলের দাম

ছয় মাসের রেকর্ড ভাঙল জ্বালানি তেলের দাম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App