×

জাতীয়

নতুন দুই উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে এত বিতর্ক কেন, নেপথ্যে আসল কারণ কী

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৯ পিএম

নতুন দুই উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে এত বিতর্ক কেন, নেপথ্যে আসল কারণ কী

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উপদেষ্টা পরিষদে নতুন  তিন সদস্য যুক্ত হওয়ার পর তা আরো প্রকাশ্যে এসেছে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই সঙ্গে সংগঠনটির অনেককে ফেসবুকে প্রোফাইল ছবি লাল করেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

মূলত, শিক্ষার্থীদের সমর্থন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। অথচ তারাই কেন প্রতিবাদ করছে? শুধুই কি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন নাকি ক্ষমতাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বও আছে- সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। জবাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকরা জানিয়েছেন, উপদেষ্টা নিয়োগসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেশ কিছু কার্যক্রম নিয়ে তাদের কাছেও প্রশ্ন রয়েছে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে এই সরকারের বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের কিছু কিছু কাজে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না থাকায় আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ ইস্যুর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, সংবিধান বাতিলসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বেশ কিছু দাবি তুললেও সেসব দাবিও বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব দেখা গেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সরকারে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ অবশ্য এই বিরোধের কথা অস্বীকার করেননি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি না সরকার আর ছাত্রদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আছে। নতুন উপদেষ্টার অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কেন এমন হচ্ছে এটা আমরা নিজেরাও বোঝার চেষ্টা করছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাঠের নেতাদের কোনো না কোনো কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসছে।

দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাস পর গত রবিবার অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে নতুন করে আরো তিনজনকে উপদেষ্টা করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম ছাড়া ওই দিন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ব্যবসায়ী শেখ বশির উদ্দীন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

বশির ও ফারুকীর উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে ওই দিন রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ধরনের বিতর্ক দেখা যায়। ফেসবুক পোস্টে কেউ কেউ অভিযোগ করেন, নতুন ওই দুই উপদেষ্টা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত। ছাত্র-জনতার অংশীদারিত্ববিহীন সিদ্ধান্তে উপদেষ্টা নিয়োগ হয়েছে এমন দাবি করে পরের দিন (সোমবার, ১১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রাতে ফেসবুক প্রোফাইল লাল করে করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, সাঈদ ওয়াসিম মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ।

একইভাবে প্রোফাইল ছবি লাল করে পোস্ট দেন সংগঠনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেলসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকসহ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অনেকেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এটা হচ্ছে এক ধরনের বিপ্লব। যতদিন পর্যন্ত না আমরা অনুভব করবো রাষ্ট্রীয় সবখানে এটার প্রতিফলন ঘটছে ততদিন পর্যন্ত এটা চলবে। তবে তিনি জানান, লাল প্রোফাইলে এই প্রতিবাদ ব্যক্তিগত জায়গা থেকেই করছেন।

এর আগে ছাত্র জনতার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে গত ৩০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লাল প্রোফাইল ছবি আপলোড করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এবার উপদেষ্টা পরিষদে নতুন দুজন সদস্য নিয়োগ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী তাদেরকে কিসের ভিত্তিতে তারা উপদেষ্টা হচ্ছে এটা আমরা জানতে চাই। তাদের মানদণ্ড কী সেটা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। সরকারের এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা উচিত।

জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকার যখন যে সিদ্ধান্ত নেয় তার সব সিদ্ধান্ত তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয় না। যে কারণে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে এবং তা প্রকাশ্যে এসেছে। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার অনেক বড় একটা বডি। সরকার সব কিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা নিয়ে সমালোচনা ও দ্বন্দ্ব হচ্ছে এটা আমরা দেখেছি। আমরা কমিউনিকেট করার চেষ্টা করছি, আমাদের ছাত্র সহকর্মীদের এটি নিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, তিন মাসে সরকারের অনেক কিছু করার কথা ছিল, কিন্তু কিছু তো হচ্ছে না। এ ব্যাপারটা নিয়ে আমরা চিন্তিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, উপদেষ্টা যে কেউ হলেই তার সমালোচনা হবে। কারণ এর স্বচ্ছ কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া নেই। তাছাড়া নতুন যাদেরকে উপদেষ্টা নিয়োগ করা হচ্ছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে সমালোচনা আছে। যে কারণে বেশি সমালোচনা ও এ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়ছে।

টাইমলাইন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

‘সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App