সরকারের মেয়াদ ও নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে যা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ ও নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের জন্য ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে, কিন্তু পথ চলতে চলতে কিছুটা থামতে হবে, কারণ এটি কোন দিকে যাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেজন্য আমাদের সংস্কার কমিশনের কাছে যেতে হবে।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় ভারতের ‘দ্য হিন্দু’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে খেলাপি ঋণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ ও সেগুলোর সফলতার কথা তুলে ধরেন ড. ইউনূস।
ড. ইউনূস বলেন, যখন আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তখন আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যে— আমরা শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবো না, যে সরকার গঠন হবে, নির্বাচন আয়োজন করবে এবং নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।
আরো পড়ুন : আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে যা বললেন ড. ইউনূস
তিনি বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল, আমাদের প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশের সংস্কার। আমরা বেশি দিন থাকতে চাইনি, তাই আমরা এই ফর্মুলেশন নিয়ে এসেছি। নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছে, তবে পৃথক প্রক্রিয়া হিসাবে সংস্কারের অন্যান্য প্রক্রিয়াও সমান্তরালভাবে চলবে। এখন, প্রথমত, আমরা নির্বাচন কমিশন তৈরি করছি, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এটি ঘোষণা করব।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা গঠন করবেন। কিন্তু অন্য বেশ কিছু সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচন করতে পারবেন না— আমাদের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ থাকবে কি না, বাংলাদেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কিনা, মেয়াদের সীমা কী হবে থাকবে ইত্যাদি বিষয়ে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি বলব— নির্বাচনের জন্য ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে, কিন্তু পথ চলতে চলতে কিছুটা থামতে হবে, কারণ এটি কোন দিকে যাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেজন্য আমাদের সংস্কার কমিশনের কাছে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এই কাজে কয়েক বছর লাগতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমার কোন ধারণা নেই। জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব ঐকমত্য তৈরি করতে কাজ করব।
