×

জাতীয়

সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের কার বিরুদ্ধে কত মামলা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম

সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের কার বিরুদ্ধে কত মামলা

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন,হারুন অর রশীদ, হাবিবুর রহমান ও বিপ্লব কুমার সরকার।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি করে মানুষ হত্যার অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৯৫২ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে এসব মামলা হয়। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮ পুলিশ সদস্য। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হলেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান হারুন অর রশীদ। 

সারাদেশে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ১৭১টি। মামলার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যার বিরুদ্ধে ১৫৫টি মামলা রয়েছে।  এত মামলা মাথায় নিয়ে হারুনের বিরুদ্ধে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলেও নিজে থেকে আত্মসমর্পণ করেছেন সাবেক পুলিশপ্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন।  প্রায় ৫০ দিনের বেশি রিমান্ডে থাকার পর তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। 

এছাড়া বেশি মামলা হওয়ার তালিকায় রয়েছে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১১৭টি, অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকারের নামে ১২৫টি, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৬টি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি এসএম মেহেদী হাসানের নামে ৩১টি। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় ৯৫২ জনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮ জন পুলিশ সদস্য।

অভিযোগ রয়েছে- বাকিদের অনেকেই দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন, কেউবা দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে মামলার এজাহারে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে- যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সারাদেশে হওয়া পুলিশের বিরুদ্ধে এসব মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আসামির তালিকায় রয়েছেন- ছয়জন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক, সাবেক ৩৬ অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, ৫ জন অতিরিক্ত আইজিপি, সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, পরিদর্শক, উপপরিদর্শক, কনস্টেবল ছাড়াও বিভিন্ন পদ-পদবির সদস্য।

জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে নির্বিচার গুলি ও মানুষ হত্যার ঘটনা বাহিনীর ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলপ্রয়োগের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি নানা মহল থেকে ওঠে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পুলিশের সাবেক ও বর্তমান বেশ কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তারের জন্য মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে আবেদন করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধাপে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

ডিসিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭টি মামলার আসামি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। সরকার পতনের পর ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করা নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালকে ব্রিফ করছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের তৎকালীন ডিসি ইকবাল। তার মোবাইলে একটি ভিডিও দেখিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘গুলি করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়...।’ এসময় সেখানে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিদের মধ্যে আসামির তালিকায় আছেন- এস এম তানভীর আরাফাত, কাজী মনিরুজ্জামান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, তারিক বিন রশিদ, শাহেন শাহ, নুরুল আমিন, জুয়েল রানা, মাহবুব উজ জামান, হাফিজ আল ফারুক, এইচ এম আজিমুল হক, গোবিন্দ চন্দ্র ও রাজীব ফারহান। 

পুলিশ পরিদর্শকের মধ্যে আসামির তালিকায় আছেন- আমিনুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান,  খন্দকার মো. হেলাল উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, সাব্বির হোসেন মুন্সী, ফরমান আলী, মাজহারুল ইসলাম, আবুল হাসান, কাজী মঈনুল, শাহ আলম, প্রলয় কুমার সাহা, মো. সেলিমুজ্জামান, মোস্তাবিজুর রহমান, ফারুক আহমেদ, জাকির হোসেন, আতিকুল হক, অপূর্ব হাসান, গোলাম মাওলা, মসিউর রহমান, আশীষ কুমার দেব, খালেদ চৌধুরী, রাজীব শর্মা, আরফাত হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া, ইয়াসিন গাজী, মাহতাব উদ্দিন, শাহ দারা খান, মাহমুদুল হাসান, রাসেল হোসেন ও সাজ্জাদ হোসেন।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, পুলিশ তার অস্ত্র ব্যবহার করবে জনস্বার্থে এবং আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে। আইন সবার জন্য সমান। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা উচিত। মামলা নিয়ে একধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দোষী-নির্দোষ চিহ্নিত করতে বিলম্ব হলে বাহিনীর সদস্যদের মনোবলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে পুলিশের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে মামলা তদন্তে মনিটরিং কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। যথাযথ তদন্তে সক্ষম পুলিশ সদস্যদের দিয়ে মামলার তদন্ত করা হবে। সারাদেশে বিভাগ অনুযায়ী ‘মেনটরিং অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন, অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাসম্পন্ন এবং তদন্তে বিপুল অভিজ্ঞতা আছে– এমন সদস্যদের নিয়ে আলাদা ‘মেনটরিং টিম’ করা হচ্ছে। তারা প্রতি জেলায় ও থানায় গিয়ে মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।    

আরো পড়ুন: দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার পলক-জ্যোতি-হেনরী

টাইমলাইন: ভারতের ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু

ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু

মাগুরায় মদপানের পর অসুস্থ দুই যুবকের মৃত্যু

মাগুরায় মদপানের পর অসুস্থ দুই যুবকের মৃত্যু

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App