×

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা অভূতপূর্ব

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা অভূতপূর্ব

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা অভূতপূর্ব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকাই প্রমান করে প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিবাসন ব্যয় কমানো, প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে শ্রমিকবান্ধব ও তৎপর হবার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা হলে অনুষ্ঠিত হয় রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে তাই শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনতে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্দামা হিসেবে নারী কর্মী প্রেরণের ভুল নীতি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী, সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতে গবেষণা, নীতি-উন্নয়ন ও অভিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজের স্বীকৃতি প্রদান এবং দেশের অভিবাসন খাতের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিভিন্ন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে ‘সোনার মানুষ সম্মাননা, ‘সেরা রেমিট্যান্স ব্যবহারকারী পরিবার সম্মাননা এবং অভিবাসনসেবা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, রিক্রুটিং ও কিছু ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে সরকার অবগত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদেশে যেতে জমিজমা বিক্রি করেও চাকরির নিশ্চয়তা না পাওয়ার দুর্ভোগ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। নারী কর্মীদের জন্য হোস্টেল, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহন এবং কর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও অন্যান্য সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিগত ১৭ বছর দেশকে আমদানি নির্ভর করে রাখতে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। দেশকে আমদানি নির্ভর করে রাখা লুটপাটের চেয়ে বড় উদ্দেশ্য ছিলো দেশকে পঙ্গু করা। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের নীতিমালা থেকে বের হয়ে আসার সময় হয়েছে। বলে, প্রবাসী নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও অন্যান্য দায়িত্বশীলদের এ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘদিন প্রবাসীদের নিয়ে বিভিন্নভাবে কাজ করে যাওয়ায় মরুকে ধন্যবাদ জানায় তিনি।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের মানব ভূগোলের অধ্যাপক ড. নিল অ্যাডজার (Dr Neil Adger) বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করা এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও হুমকি নিয়ে কাজ করা সম্ভব তাই আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় আমাদের সম্মিলিত কণ্ঠ অত্যন্ত শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চলমান ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের বাস্তবতা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আসন্ন দশককে অভিবাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দশক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান নিল এডজার। এই দশক অভিবাসনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো সবার জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলেও মন্ত্যব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী অভিবাসন খাতের আগামী দশকের নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারবিষয়ক সনদের বাস্তবায়ন জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ও বিদেশিদের প্রতি বিদ্বেষ—যা জেনোফোবিয়া নামে পরিচিত—প্রতিরোধ করতে হবে। অভিবাসন নিয়ে আলোচনায় মানুষের অধিকার ও মর্যাদাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মূলত অভিবাসনপ্রেরণকারী দেশ। এসব দেশের সরকারকে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এককভাবে উদ্যোগ নিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন। তাই অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তন অপরিহার্য।

সমাপনী পর্বে রামরুর ৩০ বছরের গবেষণা, নীতি-সংলাপ ও অভিবাসন অধিকারবিষয়ক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অভিবাসীদের অবদান, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় যেসব নির্দেশনা দিল পুলিশ

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় যেসব নির্দেশনা দিল পুলিশ

সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ও স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ও স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত

উচ্চ বেতনের লোভে রাশিয়ায় পাড়ি, যুদ্ধের ফাঁদে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

উচ্চ বেতনের লোভে রাশিয়ায় পাড়ি, যুদ্ধের ফাঁদে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App