উচ্চ বেতনের লোভে রাশিয়ায় পাড়ি, যুদ্ধের ফাঁদে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহতি
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁদের পাঠানো হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে।
এ ঘটনায় প্রায় ২০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়ার পর সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হতো। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তের জন্য তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হতো। তাঁদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হলে হামলাকারীদের অবস্থান ও দূরত্ব নির্ণয় করা সম্ভব হতো বলে জানায় সংস্থাটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান (৫৫) এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আবু তাহের লেন্টুকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে রাজন হোসেন (২১) নামের এক তরুণকে নির্মাণকাজে চাকরির কথা বলে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান। গত ৭ মে সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
তিনি আরও জানান, টানা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে রাজনসহ ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। সেখানে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চার দিন চরম কষ্টের পর হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেন রাজন। পরে আহত অবস্থায় পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন।
এসআরবির এই কর্মকর্তা জানান, দেশে ফিরে ক্ষতিপূরণ দাবি করলে মিজানুর রহমান রাজনের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন, মারধরের চেষ্টা চালান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় রাজনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়।
তদন্তের তথ্য তুলে ধরে অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, চক্রটি উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচার করে। পরে তাঁদের যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। দুজন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন।
বাকি আটজনের মধ্যে দুজন আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
