নতুন পে-স্কেলে সংকট বাড়ার আভাস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা এবং দেশি-বিদেশি ঋণের চাপের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সরকারের পরিচালন ব্যয় আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে ব্যয় বৃদ্ধি করা হলে অর্থনীতির বিদ্যমান চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দেশি-বিদেশি সরকারি ঋণের পরিমাণ ২২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ। এই ঋণের বোঝা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি বেশ খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট, সরকারের আয় কমে যাওয়া এবং খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তাঁর মতে, আগের সরকারের আমল থেকে অর্থনীতির এই অধোগতি শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারও রাজস্ব আয় বাড়াতে পারছে না, অথচ ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর বিবেচনায় দেশ ইতোমধ্যে ঋণের ফাঁদে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
আবু আহমেদ আরও বলেন, ঋণের বোঝা কমাতে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। একই সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। অর্থনীতির জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এর ফলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্যও বাড়তে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থনীতির চাপ কমাতে বিভিন্ন খাতে সংস্কার এবং আয় বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, দেশের ঋণ পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে এ সংকট একদিনে তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে নেওয়া ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করে দুর্নীতি ও অপচয়ের মাধ্যমে নষ্ট করার কারণেও ঋণের চাপ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. মুজেরী বলেন, পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা না গেলে দেশের অর্থনীতি আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমেই সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল খাতের বাইরে নতুন ঋণ নিয়ে ব্যয় করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপচয় কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ঋণের অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত না হলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির অতিরিক্ত চাপ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
