পূজার নিরাপত্তায় সিসি ও বডি ক্যামেরায় নজরদারি করা হচ্ছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ ঢাকা মহানগরীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পূজামণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও বডি-অন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৫৭টি মণ্ডপকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি-অন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ বলেন, নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের ২ হাজার ১০০ জন পুলিশ সদস্য ২৫৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর নজরদারি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরেও বিশেষ নিরাপত্তা
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পথ ও জনসমাগম বিবেচনায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
বিসর্জন শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
গুজব ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা ঠেকাতে ডিএমপির সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ডিএমপির নিরাপত্তাব্যবস্থা, পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীলতা এবং নগরবাসীর সহযোগিতায় ঢাকা মহানগরীতে এবারের দুর্গাপূজা সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কমিশনার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।
