স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই তাদের। নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী মাঠে শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই, আপনারা আপনাদের বিবেকের কাছেই দায়ী থাকবেন।’
তিনি বলেন, যে সময়ে নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা, সরকারি বরাদ্দ ও ছুটির সুযোগ সবচেয়ে বেশি থাকবে, সেই সময়ে সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতি সমর্থনও বেশি থাকবে বলে আশা করা যায়।
অতীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে অনেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা বিচার করার দায়িত্ব তিনি তাদের ওপর ছেড়ে দিতে চান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সিটিজেন হিসেবে, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন, আপনারা কোন সময়ে, কোন গণতান্ত্রিক সময়ে আপনাদের সব গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে?’
আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ বলা উচিত। কারণ, বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ এখানে সম্প্রদায় হতে আসিনি। আমাদের দেশের আইন-কানুন কেউ কাউকে সম্প্রদায় বলে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, সবাই সিটিজেন, সবাই সমান অধিকারের অধিকারী।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীকে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার দিয়েছে। তাই প্রত্যেকের ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ, বরাদ্দ ও ছুটির দাবি
দুর্গাপূজার আয়োজন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ সরকারি বরাদ্দ এবং সর্বোচ্চ ছুটি রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যাতে নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়, সে জন্য সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাস, আচার ও অনুষ্ঠান তাদের হৃদয়ের খুব কাছের। তাই অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং বনানী ও গুলশান এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
