গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে যাওয়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যক্তিগত লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যক্তিগত লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবর খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
মাদক কারবারিদের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়ার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে নেওয়া উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবেই গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় যান তিনি।
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার দাবি
অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয় বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল।
অভিযানে ছয়জন আটক, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি
ইশরাক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গণমাধ্যমের সমালোচনা
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কয়েকটি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কিছু গণমাধ্যম অভিযানের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি উপেক্ষা করে শুধু অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির দৃশ্য প্রচার করেছে।
সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
বিবৃতিতে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
কোনো ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
