×

জাতীয়

‘দয়া করে আইনের নামে আমাদের হাত আর বাঁধবেন না’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

‘দয়া করে আইনের নামে আমাদের হাত আর বাঁধবেন না’

ছবি : সংগৃহীত

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনকে কেন্দ্র করে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারের সমালোচনা ও সাইবার অপরাধের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করতে না পারলে এ-সংক্রান্ত সংকটের সমাধান হবে না। আইনের নামে গণমাধ্যমের হাত বেঁধে দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বিষয়ে মিডিয়া কমিটি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর গোলটেবিল বৈঠকে’ তিনি এসব কথা বলেন।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আইন প্রয়োজন—এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। তবে আইনটি কেন এবং কাদের জন্য করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাঁরা আইন তৈরি করেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর অনেক সময় তাঁরাই সেই আইনের ফাঁদে পড়েন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, অতীতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছিল। করোনা মহামারির সময়ও তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের আইনের আওতায় যেকোনো সময় কাউকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রস্তাবিত আইনে সংবাদমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির অপরাধ বা মতামতের দায়ে পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একজন ব্যক্তির কারণে পত্রিকা বা ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিধান গণতান্ত্রিক আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সাংবাদিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন

সাংবাদিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় বিচারের সুযোগ রাখার প্রস্তাবের সমালোচনা করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ভেজাল পণ্য ও ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যবহৃত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়ার চিন্তা উদ্বেগজনক। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এমন বিধানের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রস্তাবিত আইনে বিভিন্ন অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ভুল তথ্য ও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানোর মধ্যে পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? কারও পছন্দ না হলেই কোনো তথ্যকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ থাকলে তার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আইনের ভাষা ও প্রয়োগের ধরন স্পষ্ট না হলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবেও সাংবাদিক বা সাধারণ নাগরিক হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আইনের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা, যথাযথ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

আইন প্রণয়নে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

প্রস্তাবিত জাতীয় কাউন্সিল বা কমিটিতে আমলা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রাধান্য নিয়েও সমালোচনা করেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, আমলাদের তৈরি করা প্রস্তাব যথাযথ আলোচনা ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে।

আইনের প্রয়োগ ও কাঠামো নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কেবল আইন প্রণয়ন করে মানুষকে দায়িত্বশীল করা সম্ভব নয়। সাইবার বুলিং ও অপতথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা এবং সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষমতাসীনদের সতর্ক করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয়; সরকার আসে, সরকার যায়। ক্ষমতার বাইরে গেলে অনেক সময় আগের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি উপলব্ধি করা যায়। তাই এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে আইনপ্রণেতা ও ক্ষমতাসীনদের জন্যই সংকট তৈরি করে।

তিনি বলেন, ‘দয়া করে আইনের নামে আমাদের হাত আর বাঁধবেন না। আমাদের হাত বেঁধে দিলে দিনশেষে আপনাদেরই ক্ষতি হবে, কারণ আপনাদের পক্ষেও তখন আর কেউ লিখতে পারবে না।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা, ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ঢাকায় জরুরি অবতরণ

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা, ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ঢাকায় জরুরি অবতরণ

মডেলকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

মডেলকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে এমপিদের ডিও লেটার দিলেন কৃষিমন্ত্রী

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে এমপিদের ডিও লেটার দিলেন কৃষিমন্ত্রী

দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙনে নিঃস্ব বহু পরিবার, শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরা

দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙনে নিঃস্ব বহু পরিবার, শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App