ইশরাকের পদত্যাগ ইস্যুতে গতকাল কী ঘটেছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ ঘোষণা দেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে।
তবে এর আগের রাতে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে ভিন্ন ধরনের খবর সামনে আসে। রোববার রাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। ওই খবরকে গুজব বলে দাবি করেন ইশরাক। তাঁর প্রেস কর্মকর্তাও সংবাদটিকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান।
কিন্তু সোমবার সকালে ইশরাক নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও পদত্যাগপত্রের খসড়া
শফিকুল আলমের দাবি, রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান। তাঁকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র চাওয়া হয়।
পোস্টে শফিকুল আলম আরও জানান, এরপর ইশরাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষে যান। ওই কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি পদত্যাগপত্রের একটি খসড়া তৈরি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ডেইলি ওয়াদা’ আগের রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করতে পেরেছিল।
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চেষ্টা নিয়ে দাবি
শফিকুল আলমের পোস্টে বলা হয়, পদত্যাগপত্রের খসড়া তৈরির পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে শুরু করে। তাঁর ধারণা, ইশরাক সিদ্ধান্তটি পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী দিনভর ব্যস্ত থাকার পর রাত ১১টার দিকে দিনের কাজ শেষ করেন।
শফিকুল আলমের দাবি, কেউ কেউ আশা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হয়তো সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবেন। তবে তাঁর মতে, তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সাধারণত তা থেকে সরে আসেন না।
ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তার দেওয়া বিবৃতিটিকেও ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নেওয়ার শেষ মুহূর্তের চেষ্টা বলে মনে করেন শফিকুল আলম। তবে এসব বক্তব্য তাঁর নিজস্ব দাবি ও মূল্যায়ন।
প্রেস কর্মকর্তার বক্তব্য
এর আগে রোববার রাতে ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে সোমবার সকালে ইশরাক হোসেন নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। তাঁর ঘোষণার পর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
