এইচআরএসএস’র প্রতিবেদন
৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
- কারাগারে ৯৫ বন্দীর মৃত্যু
- নির্যাতনের শিকার ২৪০৪ নারী ও কন্যাশিশু
- নির্যাতন ও হয়রানির শিকার ৫১৮ সাংবাদিক
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সারাদেশে রাজনেতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৭৩ জন নিহত এবং ৬৪৭৩ জনের অধিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি–এইচআরএসএস’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৬ টি জাতীয় দৈনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে ১০১৩ টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৪৭৩ জন। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৩৪২ টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৬৩২ জন ও নিহত ৪০ জন। ৩২১ টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২১৯০ জন ও নিহত ১১ জন, ৯৩ টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৪৫ জন এবং নিহত হয়েছেন ০৯ জন। ৪৭ টি বিএনপি-এনসিপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩২০ জন, আওয়ামীলীগ-এনসিপির মধ্যে ৫টি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৫৮ জন, আওয়ামীলীগ-জামায়াত এর মধ্যে ২ টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন আহত ও ১ জন নিহত, আওয়ামীলীগের অন্তর্কোন্দলের ১ টি ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন, এবং ১২৮ টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩২০ জন।
এছাড়া, অন্যান্য ছোট-বড় দলগুলোর মধ্যে সংঘটিত ৭৪ টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪০৫ জন এবং নিহত হয়েছেন ১১ জন। সহিংসতার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০১৩ টি সহিংসতার ঘটনার ৯৩১ টিই (৯১%) ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে।
নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬ (৬৩%) জন, জামায়াতের ৮ (১১%) জন ও আওয়ামীলীগের ৬ (৮%) জন, চরমপন্থী ১ জন এবং ১ জন সাধারণ নারীসহ অন্যান্য দল বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১২ জন।
“আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীতা ও আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন দলের সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।”
এর পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ৮৮ টি ঘটনা ঘটেছে। এসকল হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন আহত এবং বিএনপির ৩০ জন, আওয়ামীলীগের ১১ জন, জামায়াতের ০৫ জন ও অন্যান্য দলের ৬ জনসহ মোট ৫২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫০ এর অধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও সারাদেশে আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, নির্বাচনী সহিংসতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রীক সহস্রাধিক বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্রীক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২ টি সহিংসতার ঘটনায় ২৬২৩ জন আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ১৩ জন। এছাড়া নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
সহিংসতার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১২৩টি ঘটনায় ৯৪১ জন আহত এবং ৮ জন নিহত, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ২৩৪ টি ঘটনায় ১,৪৩৮ জন আহত এবং ৪ জন নিহত, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৩টি ঘটনায় ৩ জন আহত ও ১ জন নিহত, বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১৬টি ঘটনায় ১৪১ জন আহত, এবং বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে ১৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬৩ জন। এছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘটিত ১০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮ জন।
নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ১৩ জন নিহতের মধ্যে বিএনপির ৯ জন, জামায়াতের ২ জন, আওয়ামী লীগের ১ জন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১ জনের।
রাজনৈতিক নেতাকর্মী আটক ও মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লেখিত এ সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২৭০ টির অধিক মামলা হয়েছে। এ সকল মামলায় ৫৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩২৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। এ সকল মামলায় ৫৬৪৪ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ৪৮২৭ জন, বিএনপির নেতাকর্মী ৬০৯ জন এবং জামায়াতের ১৪৫ জন, এনসিপি ৪৩ জন, চরমপন্থি ৩৭ জন। পাশাপাশি, সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মব সহিংসতা ও গণপিটুনীর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক-বিতন্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টাসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনী ও মব সহিংসতার ৩৯৮ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৪০১ জন।
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত নয় মাসে ২৮৮ টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৯৭ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৮৭ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৭৭ জন সাংবাদিক। ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ এর অধীনে ৫১ জন সাংবাদিককে আসামী করে ১৯ টি মামলা হয়েছে।
সভা সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নয় মাসে ৫৮ টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা প্রদান করে, এতে ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এছাড়া, এই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর বিভিন্ন ধারার অধীনে পৃথক ৪০ টি মামলায় ১১৩ জনকে অভিযুক্ত এবং ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যাক্তিসহ চলমান রাজনৈতিক ইস্যু, জুলাই ইস্যু, মাদক, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, মানহানিকর কন্টেন্ট তৈরি ও কটূক্তির সমালোচনায় নিহত ৪ জন, নির্যাতনের শিকার ৪ জন, আটক ২১ জন ও ২০টি মামলা ও ১২ জনকে চাকুরিচ্যুত বা সমজাতীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২৪ জনকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কুরআন অবমাননার অভিযোগে আটক করা হয়েছে, এসব ঘটনায় ২৪টি মামলা দায়ের ও ২ জন মারধরের শিকার হন। এছাড়া সাইবার বুলিং,ফেসবুকে সমালোচনা ও কটূক্তিসহ অন্যান্য ইস্যুতে আরও ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিচার বহির্ভূত হত্যা, হেফাজত ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে কারাগারে ৯৫ জন আসামীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন কয়েদী ও ৫৫ জন হাজতি। মৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় হলো, ২০ জন আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের, ১ জন বিএনপির এবং ৭৪ জন সাধারণ কয়েদী হিসেবে নথিতে উল্লেখ আছে।
এছাড়া, এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ এবং কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে । এর মধ্যে হেফাজতে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ১২ জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন এবং বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইন শৃ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে গ্রেফতার এড়াতে পালাতে গিয়ে বহুতলভবন থেকে পড়ে, পানিতে ডুবেসহ বিভিন্ন কারণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পুলিশ কর্তৃক অটোরিক্সা জব্দ করায় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে এক অটোরিক্সাচালকের মৃত্যু হয়েছে।
গুম ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময় অন্তত একটি গুম ও একটি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পরিচয়ে মিরাজ শেখ (৩২) নামে এক যুবককে গুম এবং গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর থেকে শামীম খান নামে এক ব্যবসায়ীকে সাদা পোশাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আটকের দুই দিন পর উদ্দেশ্যমূলক সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় আটক দেখানোর তথ্য নথিতে লিপিবদ্ধ আছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নয় মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৫৬ টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন, এবং ২১ টি মন্দির, ২০ টি প্রতিমা ও ৪৭ টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে । জমি দখলের ৪ টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এক নারী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
সারাদেশে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নয় মাসে সারাদেশ নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের ৪৬৫ টি ঘটনায় ৪৯১ টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় ৪৬ টি, ঝুলন্ত অবস্থায় ৮৭ টি, শরীরে একাধিক আঘাতসহ ৭৪ টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গলা কেটে হত্যা ৩৫ টি, হাত-পা বাঁধা ৩১ টি লাশ পাওয়া গেছে। এর বাইরে নানা ধরণের পরিস্থিতিতে আরও ২১৮ টি লাশ পাওয়া গেছে।
সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনা বলা হয় , গত নয় মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৩ টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় নিহত ১৩ জন ও আহত হয়েছেন ৩৯ জন, এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ২২ জন । ৪৪ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে।
অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত, ৬ জন আহত, ৬ জন গুলিবিদ্ধ এবং ৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মী কর্তৃক পুতে রাখা স্থল মাইন বিষ্ফোরণে ৮ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে।
শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নয় মাসে ৫৮২ টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১২৬৩ জন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলনের সময় ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ৩ জন গৃহপরিচালিকা নিহত ও ৭ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাঁচ জন গৃহপরিচালিকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন ছাড়া বাকি সবাই শিশু ও কিশোরী।
এ মাসে ২৪০৪ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতিত ২৪০৪ জন নারী ও কন্যা শিশুর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৬৫৭ জন, যাদের মধ্যে ৩৯২ জন (৬০%) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ১৩০ জন (২০%) নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। ধর্ষিত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ২ জন। ৬৯৬ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ২৭৬ (৪০%) জন। এছাড়া, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৩২, আহত হয়েছেন ৩৫ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৫ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৪৫৭ জন, আহত হয়েছেন ২৭৯ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ২১৯ জন নারী। এছাড়া এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৫ জন নারী।
অন্যদিকে, এটি উদ্বেগজনক যে, এ সময়ে ১৮১০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ১৩১৬ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, এ সময়ে ঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা ও গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতন শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা এবং হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যু, নতুন করে গুম ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগের মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। কেননা এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
এসময় সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সকল নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
