×

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী

‘যে ভোট দেয়নি তার জন্যও সরকার হতে চাই’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

‘যে ভোট দেয়নি তার জন্যও সরকার হতে চাই’

রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমনভাবে দেশ পরিচালনা করতে চায়, যাতে যারা ভোট দিয়েছেন, তারাও সরকারের সেবা পান, আবার যারা ভোট দেননি, তারাও সমানভাবে সরকারের সেবা পান। দেশের সব এলাকার সমান উন্নয়ন এবং সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রংপুর নগরীর প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থিত ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন এবং পূজার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশটি হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। আমরা সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করছি। বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষ এই দেশে শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করেছি, আগামী হাজার বছরেও যেন আমরা একসঙ্গে বসবাস করতে পারি।’

সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে কে সমর্থন দিয়েছেন আর কে দেননি, সেই পার্থক্য না করে সরকার সবার জন্য কাজ করতে চায়। একইভাবে দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও সব মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন করতে চায় সরকার। এ প্রসঙ্গে রংপুর মহানগরের উন্নয়নে একটি বৈঠকে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সোমবার জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, হতে পারে যেসব সমঝোতা

স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদের মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে, যাতে মানুষ রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।

এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে করতে হবে। আমাদের ভেতরের ভেদাভেদ ভুলে থাকতে হবে। একসঙ্গে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

জনগণের কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণ তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংসদ গঠন করেছে এবং সেখানে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। তাই রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের মতো এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সন্তানদের শিক্ষাকার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা চায়। তারা শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চায়। সরকার জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলেও একটি মহল বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতাড়িত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই প্রচেষ্টাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। এই জনগণকে আমরা বর্তমান সরকার অতীতের মতো বর্তমানেও পাশে পেতে চাই।’

বক্তব্যের শেষে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে সড়কপথে রংপুরে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছালে সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ আগারওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ আগারওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে

বাণিজ্য মেলার প্রথম দিনেই দুই মোটরসাইকেল চুরি, বিকাশে টাকা দাবি

বাণিজ্য মেলার প্রথম দিনেই দুই মোটরসাইকেল চুরি, বিকাশে টাকা দাবি

ইতালিতে সংঘর্ষ-লুটপাট, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি

ইতালিতে সংঘর্ষ-লুটপাট, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি

অতিরিক্ত ডিআইজির ফ্ল্যাটে ডিবির অভিযান, মাদকসহ ৮৫ নারী-পুরুষ আটক

অতিরিক্ত ডিআইজির ফ্ল্যাটে ডিবির অভিযান, মাদকসহ ৮৫ নারী-পুরুষ আটক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App