‘পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘পতিত স্বৈরাচার’ ও বিরোধী দল এক হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলি—করব কাজ, গড়ব দেশ: সবার আগে বাংলাদেশ। যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।’
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই, পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে যে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে যারা দেশের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়, যারা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল, এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।’
দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণের সচেতন হওয়ার। আমি আপনাদের আহ্বান জানাব, আজ থেকে আমাদের সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, সেটি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।’
আখচাষিদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা
জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারে বোতাম চেপে সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার অর্থ পাঠান তিনি। এ সময় ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন।
আরও পড়ুন: আসুন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি: প্রধানমন্ত্রী
জনসভায় রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজারো নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাঁদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের উপস্থিতিও ছিল।
পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা
জনসভায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শিগগির শুরু করে দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন।
আগামী ১২ মাসে ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ
বেকারত্ব দূর করতে বন্ধ কলকারখানা চালু করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাঁদের উৎসাহিত করার ফলে গত সাত মাসে ছয়টি বন্ধ মিল-কারখানা চালু করা সম্ভব হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন উদ্যোক্তাকে, বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে যাতে তাঁরা মিল-কারখানা চালু করতে পারেন, সে জন্য উৎসাহিত করেছি। আর চালু করার অন্যতম লক্ষ্য হলো, আমার শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে বেকার না থাকেন, তাঁদের যাতে আবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তাঁরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন এবং নিজেদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে পারবেন।
তিন জেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার দেশের তিন জেলায় সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি রাজশাহীতে যান। বেলা ২টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে সরাসরি জনসভাস্থলে যান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা।
