সব দপ্তর-সংস্থায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জরুরি চিঠি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাছে কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এসব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে গত ১৫ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত চিঠিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, বিশেষ আদেশ (এসআরও), চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের কারণে যেসব ক্ষেত্রে সংশোধন বা সমন্বয় প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন কাঠামো
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়। এ অর্থবছরের মেয়াদ ১২ মাসের পরিবর্তে ৯ মাস নির্ধারণ করে জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণ করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কাঠামো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরির কাজ ২০২৭-২৮ অর্থবছর শুরুর আগেই, অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এডিপি ও সরকারি সফটওয়্যারে পরিবর্তন
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের ফলে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম, জাতীয় উৎপাদন ও পরিসংখ্যানগত কাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সমন্বয় করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আইবাস++, ভ্যাট ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থাগুলো নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং পরিসংখ্যান ও তথ্যপ্রযুক্তিগত কাঠামো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পর্যালোচনার ভিত্তিতে কোথায় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
যেসব দপ্তর-সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
নির্দেশনার আওতায় রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট রয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে এ নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন, আইন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, অডিট, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং আইসিটি শাখাকেও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার মাধ্যমে নতুন অর্থবছর কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়াই এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে সরকারি বাজেট, উন্নয়ন কার্যক্রম, হিসাবরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
