সেই এনসিপি নেতার ফেসবুক স্টোরিতে ফের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
এনসিপি নেতা মুজাহিদ ফকির ও তার প্রদর্শিত পিস্তল। ছবি: সংগৃহীত
পাবনার সাঁথিয়া পৌর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব মুজাহিদ ফকিরের ফেসবুক স্টোরিতে আবারও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও প্রকাশের পর জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এর আগেও তিনি ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ভিডিওটি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সরিয়ে নেন তিনি। তবে এর আগেই ভিডিওটি সংরক্ষণ করেন অনেকে। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দেখা যায়। তাদের একজন একটি আগ্নেয়াস্ত্র মেঝেতে রাখেন। পরে অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে প্রদর্শন করেন। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের কারও মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে সমালোচনা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, যে ধরনের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে আমরা মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের কারণে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজন মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন করছেন। তাদের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওসি আরও বলেন, এটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র হলে তা প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি একজন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুজাহিদ ফকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, কয়েকদিন ধরেই মুজাহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। ভিডিওটি দেখিনি, তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
