রাশেদ খাঁন
‘এনসিপির কমিটিতে ছাগলচোর ও ল্যাপটপ চোর’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
ফাইল ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব ও জামায়াতনির্ভরতার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, কাউন্সিল ছাড়াই গঠিত কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে এবং জামায়াতবিরোধী হিসেবে পরিচিত নেতাদের পদাবনতি ঘটেছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাদের উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য ও আগ্রাসী আচরণ ‘পতিত অপশক্তিকে’ মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
নতুন কমিটিতে ‘ছাগলচোর’, ‘ল্যাপটপ চোর’, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, কিছু আসন ও আসনপ্রতি নির্বাচনি খরচের বিনিময়ে এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে ‘বিক্রি হয়ে গেছে’। এ কারণে দলটিকে ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ বললেও ভুল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক দুটি স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ ও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
এনসিপির নতুন কমিটির সমালোচনা করে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানো দলটি কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি গঠন করেছে। গণতন্ত্রের কথা বলা এবং বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি দলের কাউন্সিল ছাড়া কমিটি গঠনকে তিনি লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এ ঘটনা দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার প্রবণতা প্রকাশ করেছে।
এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের অনুমোদনে হয়েছে দাবি করে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পদে চায়নি, তাঁদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে, এনসিপির মধ্যে যাঁরা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখেন কিংবা জামায়াতবিরোধী, তাঁদের পদাবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: এনসিপি পুনর্গঠন, কে কোন দায়িত্ব পেলেন?
এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দুইবারের বেশি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের বর্তমান মেয়াদই কি তাঁদের শেষ মেয়াদ? নতুন বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি শেষ পর্যন্ত ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ পথে এগোবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্য স্ট্যাটাসে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য ও আচরণের সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য ও আগ্রাসী আচরণের সুযোগ নিয়ে ‘পতিত অপশক্তি’ আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এক যুবকের ‘একটিমাত্র স্নাইপার দরকার ছিল’ মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বিরোধী দলের জনসভা ও টকশোগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুম-খুন এবং এসব ঘটনার বিচার নিয়ে আলোচনা হয় না বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, গণ-অভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির। জামায়াত ও এনসিপি এমন একটি বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যেন আট মাসের বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, এসব বক্তব্য ও অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হওয়া এবং মামলা-হামলার শিকার নেতারাও এ ধরনের বক্তব্য থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে যাঁরা রাজপথে নামেননি কিংবা অল্প সময় আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রচারের সুযোগ নিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, গত ১৬ বছর শুধু তাঁরাই আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।
