৫ দফা দাবি
অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে। এ ছাড়া রোগীর সঙ্গে অতিরিক্ত স্বজন ও দর্শনার্থীদের অবাধ প্রবেশ এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়মিত দলবদ্ধ হামলা বা ‘মব’-এর শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির নেতারা জানান, ইতোমধ্যে একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনদের হুমকির মুখে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক সাধারণ পোশাকে ওয়ার্ড ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, পর্যবেক্ষণ কক্ষ ও জরুরি চিকিৎসা বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁরা কর্মবিরতিতে গেছেন।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবি হলো— ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনকে হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, রোগী ভর্তির দিন ও পরদিন সব ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা বিভাগ চালু করা।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু জানান, তাঁদের দাবিগুলো পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসাসেবায় তেমন প্রভাব পড়ছে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে হাসপাতালের পরিচালক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
