শেষের নাটকীয়তায় দ. আফ্রিকার রোমাঞ্চকর জয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:৫১ এএম
ছবি সংগৃহীত
পেন্ডুলামের মতো ঝুলছিল ম্যাচ। কোন দল জিতবে তা বলা যাচ্ছিল না। তবে শেষের নাটকীয়তায় রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অসাধারণ ডেথ বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়েছে তারা। এ সুবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রইলো প্রোটিয়ারা।
শুক্রবার (২১ জুন) সেন্ট লুসিয়ায় টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন কুইন্টন ডি কক। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান তিনি। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর বোর্ডে রান ওঠে তরতরিয়ে। তাতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৩ রান তোলে প্রোটিয়ারা।
শেষমেষ উদ্বোধনী জুটি ভাঙে দলীয় ৮৫ রানে। ডি ককের বিপরীতধর্মী ব্যাটিংয়ে আগাতে থাকা রেজা হেনড্রিক্স আউট হন ২৫ বলে ১৯ রান করে। পরে ফিফটি তুলে নেন ডি কক। তিনি সাজঘরে ফেরেন ৩৮ বলে ৬৫ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে।
ডি ককের বিদায়ের পর কিছুটা কমে দলের রানের গতি। কিন্তু শেষ দিকে ডেভিড মিলার ঝড় তোলেন। তার মারমুখি ব্যাটিংয়ের সুবাদে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৮ বলে ৪৩ রানের ক্যামিও খেলে আউট হন মিলার। এতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১ বলে ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন ত্রিস্টান স্টাবস।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন জফরা আর্চার। ১টি করে উইকেট তোলেন মঈন আলী এবং আদিল রশিদ।
জবাব দিতে নেমে দলীয় ১৫ রানে উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ৮ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ফিল সল্ট। অধিনায়ক জস বাটলার এবং ওয়ানডাউনে নামা জনি বেয়ারস্টো বেশ ধুঁকেন। পাওয়ার প্লেতে ইংল্যান্ড তোলে ৪১ রান।
বেয়ারস্টো ১৬ এবং ১৭ রান করে আউট হন বাটলার। মঈনও সুবিধা করতে পারেননি। ১০ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তিনি। ফলে ১০.২ ওভারে ৬১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংলিশরা।
চাপের মধ্যে দলের হাল ধরেন লিয়াম লিভিংস্টোন এবং হ্যারি ব্রুক। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে হালে পানি পায় ইংল্যান্ড। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের ইনিংসকে চাঙা করেন তারা। তাদের কাউন্টার অ্যাটাকে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে ইংল্যান্ড।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ইংলিশদের জয়ের পথেই রেখেছিলেন ব্রুক ও লিভিংস্টোন। তাদের তাণ্ডবে ম্যাচটা একরকম হাতের মুঠোয় নিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। কিন্তু লিভিংস্টোনকে আউট করে তাদের ধাক্কা দেন কাগিসো রাবাদা। ১৭ বলে ৩৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান লিভিংস্টোন।
কিন্তু ব্রুক টিকে ছিলেন। শেষ দিকে ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকেন তিনি। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৪ রান। তবে ব্রুক প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। পরে জফরা আর্চার সিঙ্গেল নিলে তৃতীয় বলে ৪ মারেন স্যাম কারান। পরের বল হয় ডট। এরপর সিঙ্গেল নেন কারান। শেষ বলে আসেনি কোনো রান। এতে ৭ রানে জয়ের হাসি হাসে দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রোটিয়াদের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন কেশভ মহারাজ ও কাগিসো রাবাদা। ১টি করে উইকেট তোলেন ওটনেল বার্টম্যান ও অ্যানরিখ নরকিয়া।
