×

মুক্তচিন্তা

ডাক্তার সংযুক্তা সাহার অপেশাদারিত্ব এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যু

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৩, ০৭:২৪ পিএম

ডাক্তার সংযুক্তা সাহার অপেশাদারিত্ব এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যু

কাজী বনফুল

"ডাক্তার সে তো মানুষ নয় আমাদের কাছে সে তো ভগবান" হ্যাঁ এটি নচিকেতার খুব জনপ্রিয় একটি গান। প্রাচীন রোমে ডাক্তারকে সব চেয়ে বিস্ময়কর মানুষ ও ঈশ্বরের দ্বিতীয় হস্ত বলে কল্পনা করা হতো। মানুষের যত প্রকার বিপর্যয় আছে তার মধ্যে শারীরিক বিপর্যয় সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। যখন কোন মানুষ অসুস্থ হয় তখনই মানুষ মৃত্যুর আহ্বান অনুভব করে। সেই মূহুর্তে মানুষের সবচেয়ে আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে একজন চিকিৎসক। সেই চিকিৎসকের মাধ্যমেই সে বেঁচে থাকার ও সুস্থতার স্বপ্ন দেখে।

সম্প্রতি সম সময়ে দুইটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি একটি ঘটেছে বাংলাদেশে অপরটি পাকিস্তানে।

পাকিস্তানে সদ্য জন্ম নেওয়া একটি নবজাতক যখন পৃথিবীর বুকে এসে কোন সাড়া দিচ্ছিল না, হৃদযন্ত্রে কোন স্পন্দন করছিলো না তখন দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা দীর্ঘ ৭ মিনিট যাবৎ দুর্দান্ত সাহস, দায়িত্বের জায়গা থেকে সিপিআর দিয়ে সেই নবজাতকের নিথর দেহে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলার মাধ্যমেই নিজেদের পেশাদারিত্বের প্রমান দিয়েছে। যেখানে প্রাণ বাঁচানোকে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে প্যাশন বলে মনে করা হয় তাকেই আমরা চিকিৎসা সেবা বলি।

অথচ বাংলাদেশে সেন্ট্রাল হসপিটালে একজন গাইনী ডাক্তার আছে নাম তাহার সংযুক্তা সাহা। এই সং শব্দটার সাথে আমার খুবই কৌতুকপূর্ণ আপত্তি আছে। সং শব্দটাকেই আমার ফেইক ও ভূয়া বলে মনে হনে হয়। খোলা বাংলায় বলতে গেলে ভং ধরে থাকা যাকে বলে, যার কোন প্রকৃত সার নেই। যেমন সংসার শব্দটার শুরুও সং দিয়ে। ভং ধরে থাকাই যার সার কথা তাকেই আমরা সং- সার বলি।

সেই সং দিয়ে শুরু হওয়া সংযুক্তা সাহা নামক ইউটিউব সেলেব্রিটি যিনি মানুষের মনে তার প্রতি বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এবং রোগীর ঝোক তাকে কেন্দ্রীক করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে ভিডিও ধারণ করে ইউটিউব বা ফেসবুকে পোষ্ট করেন। এর চেয়ে ভং ধরা ও মিথ্যা আর কি হতে পারে। যাদের নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখানোর জন্য সোস্যাল মিডিয়ার আশ্রয় খুঁজতে হয় এই রকম যত লোক আছে যারা নিজেকে দয়াবান, মানবিক, হিসেবে প্রমাণ করতে সোস্যাল মিডিয়ার দারস্থ হয়ে জনগণের কাছে হিরো প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাদের সকলকে আমি প্রচন্ড সন্দেহের চোখে দেখি। সেই সাথে প্রত্যাকটা নাগরিকেরও তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিৎ। মনে রাখতে হবে সোস্যাল মিডিয়া একটি সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যার উপর ভাসমান প্লাটফর্ম। এখানকার সেলেব্রিটি মানেই প্রচন্ড সন্দেহজনক বিষয়।

এখন কথা হচ্ছে মানুষ কি দৌড়ে দৌড়ে খাবার খেতে পারে মানুষ কি এক সাথে দুই কাজ যথার্থ ভাবে সম্পন্ন করতে পারে, পারে না। আর অস্ত্রোপচার তো খুবই গুরত্বপূর্ণ বিষয় সেখানে একটু মনযোগ বিঘ্নিত হলেই ঘটতে পারে বড় ধরনের অঘটন। সেখানে সে কিভাবে একসাথে, ভিডিও, ইউটিউব, সোস্যাল মিডিয়ার একত্রে সমন্বয় ঘটিয়ে অস্ত্রোপচার করার সময় মনযোগটা নির্দিষ্ট জায়গায় ধরে রাখতে সক্ষম হওয়া সম্ভব।

সেই ধরনের একটি অঘটন ঘটেছে সেন্ট্রাল হসপিটালে। গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহার কাছেই নিয়মিত চিকিৎসা নিয়েছেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মাহবুবা রহমান আঁখি। অস্ত্রোপচার ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে ফেসবুক ও ইউটিউবের চক্রে পরে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন আঁখি ও তার স্বামী।

প্রসবব্যথা উঠলে গত ৯ জুন মধ্যরাতে কুমিল্লা থেকে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতাল আনা হয় আঁখিকে। পরিবারের ভাষ্য, সেদিন তাদের বলা হয়েছিল ডা. সংযুক্তা হাসপাতালে আছেন। কিন্তু তিনি হসপিটালে ছিলেন না। অস্ত্রোপচার করেছে সংযুক্তা সাহার সহকারী। সহকারী অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে রোগীর পায়ুপথের নালী ও জরায়ুর নালী কেটে ফেলেন। নবজাতক শিশুটি মারা যায় এবং পরবর্তীতে মা ও মারা যান।

এখন কথা হচ্ছে এই যে মানুষকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেকে সেরা উপস্থাপন করে মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করে নিজের সহকারী দিয়ে অস্ত্রোপচার করিয়ে এই যে দুটো প্রাণের হত্যা। এর দায় কে নিবে। এই পৃথিবীতে যে হারায় কেবলমাত্র সেই উপলব্ধি করে হারানোর বেদনা। এখন কি হবে ঐ পরিবারটির। কি সান্ত্বনা নিয়ে বেঁচে থাকবে তারা, চিকিৎসরা খুনি। সমগ্র চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর তাদের এবং রাষ্ট্রের জনগনের আস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

আমাদের দেশে অনেক ভালো চিকিৎসক আছেন যারা গোপনে নিভৃতে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি এমন কয়েক জনকে চিনি যারা চিকিৎসকের নামে সত্যিই ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি। তাদের মত আরো অনেকে আছেন যারা নিরবে নিভৃতে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু কোন বাদ্য- বাজনা, ঢাক-ঢোল না পিটিয়ে।

তাহলে মানুষ একজনের অবহেলা ও অপেশাদারিত্বের কারণে অন্যদের প্রতিও খারাপ ধারনা পোষণ করবে। এটা একটি রাষ্ট্রের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা একটি রাষ্ট্রের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর জনগণের বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

চিকিৎসা সেবা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সেনসিটিভ সেক্টর যেখানে রোগী আর চিকিৎসকের সম্পর্কের ভীত নির্মাণই হয় বিশ্বাসের উপর। তাই এই বিশ্বাসের সেতু মজবুদ রাখতে, সেই সাথে অন্য যারা দায়িত্ববান ও নিজ কাজে প্রচন্ড কর্তব্য পরায়ণ চিকিৎসকগণ আছেন তাদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ধরে রাখতে, সংযুক্তা সাহাদের মত অপেশাদার ব্যবসায়ীদের অবশ্যই শাস্তি নিশ্চিত করে অবিলম্বে সেন্ট্রাল হসপিটালের মত জীবন জুয়ার কোট বন্ধ করার কোন বিকল্প নেই।

নিজের ভেতরে অর্থের লোভের কুয়ো খুঁড়ে উপরে রং মেখে সং সেজে থাকা এই সংযুক্তাদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

লেখক পরিচিতি: কাজী বনফুল, লেখক ও কলামিস্ট

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

‘রুমিন ফারহানা আপারা মৌসুমি রাজনীতি করেন’

‘রুমিন ফারহানা আপারা মৌসুমি রাজনীতি করেন’

কক্সবাজারের হোটেলে আবারও আগুন, রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

কক্সবাজারের হোটেলে আবারও আগুন, রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App