×

মুক্তচিন্তা

তরুণদের সুযোগ দিন, তারাই গড়ে তুলবে আগামী পৃথিবী

Icon

কিংবদন্তী সাবির

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৩ পিএম

তরুণদের সুযোগ দিন, তারাই গড়ে তুলবে আগামী পৃথিবী

কিংবদন্তী সাবির, জলবায়ু অধিকার কর্মী

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বজুড়ে এখন গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। বিশ্বনেতাদের এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রতি বছর পালন করা হয় জলবায়ু ধর্মঘট। ২০ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক বা বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট, যা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক মহতী উদ্যোগ। পৃথিবীর ৫০টিরও বেশি দেশে প্রায় ১৫০টি ধর্মঘট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বার্লিন, ব্রাসেলস, রিও ডি জেনিরো, নিউ দিল্লি এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে তরুণদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ নামক যুব সংগঠনের আয়োজনে এই প্রতিবাদ। কিশোর-তরুণ জলবায়ু কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে তাদের অধিকারের কথা বলার জন্য এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দাবিতে।

ঢাকা প্রেসক্লাবে একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে এই আন্দোলনের সাক্ষী থাকার সুযোগ পেয়ে আমি অনুভব করেছি, কীভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণরা নিজেদের সমাজ ও পৃথিবীকে বাঁচানোর সংকল্প নিয়ে কাজ করছে। তরুণদের এই প্রচেষ্টা সত্যিই অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই শুধু নিজেদের বাঁচানোর জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর, জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, এবং আন্তর্জাতিক নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান। তরুণরা চাইছে যে পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়া হোক এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষা করা হোক।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তরুণদের কণ্ঠস্বর দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তারা কার্যকর জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো যেখানে জলবায়ু সংকটের বাস্তবতাকে অনেকটা উপেক্ষা করছে, সেখানে তরুণরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছে। এ লড়াই শুধু প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং একটি মানবিক সংকট মোকাবেলার লড়াই।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে মারাত্মক। নদী ভাঙন, বন্যা, খরা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়ছে এবং তারা স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছে। ঢাকায় তরুণ জলবায়ু কর্মীরা সরকারের সমন্বিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা সংশোধনের দাবি তুলেছে। তারা নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ করার দাবিতে কপ-২৯ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণদের মতে, নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরই পারে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। তরুণদের এই আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। 

পরিবর্তনের বাহক হিসেবে তরুণরা তাদের প্রজন্মের সুরক্ষায় সচেষ্ট, এবং তাদের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা উচিত। আমাদের সকলেরই দায়িত্ব তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করা, কারণ তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি ন্যায্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ। তরুণদের মেধা, জ্ঞান এবং গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীকে রক্ষা করার লড়াইয়ে তরুণদের শক্তি এবং উদ্যোগই পারে পৃথিবীকে একটি সুরক্ষিত ও সবুজ স্থানে পরিণত করতে। তরুণদের সুযোগ দিন, তারাই গড়ে তুলবে আগামী পৃথিবী।

লেখক: কিংবদন্তী সাবির, জলবায়ু অধিকার কর্মী

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App