শ্রবণশক্তি হারিয়েও সুন্দরীর খেতাব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মিয়া লে রুক্স
প্রথম বধির নারী হিসেবে মিস দক্ষিণ আফ্রিকা শিরোপা জিতেছেন ২৮ বছর বয়সি মডেল এবং মার্কেটিং ম্যানেজার মিয়া লে রুক্স। সুন্দরী প্রতিযোগিতা ঘিরে নানা বিতর্ক শেষে তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। মিয়া লে রুক্স মাত্র এক বছর বয়সেই শ্রবণশক্তি হারিয়ে বধিরে হয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতায় নিজের নাইজেরিয়ান ঐতিহ্য নিয়ে ঠাট্টার শিকার হওয়ায় নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন নাইজেরিয়ার একজন প্রতিযোগী।
দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা সুন্দরীর মুকুট জয়ের পর মিয়া বলেন, তার এই জয় তাদের অনুপ্রেরণা দেবে যারা নিজেদের ‘তার মতো স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নিজেকে’ সমাজ থেকে আলাদা মনে করেছেন। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অথবা ভিন্নভাবে অক্ষম ব্যক্তিদেরও সাহায্য করতে চান বলে জানিয়েছেন মিয়া। এর আগে গত সপ্তাহে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সি আইনের ছাত্রী চিদিম্মা আদেতশিনা।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তার মা দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে নিজের মিথ্যা পরিচয় দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া আদেতশিনার বাবা একজন নাইজেরীয় এবং মা মোজাম্বিক বংশোদ্ভূত। তিনি জানিয়েছেন, এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এক ক্যাবিনেট মন্ত্রীও আদেতশিনার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার আছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আফ্রোফোবিয়া’ নামে এক প্রকার জাতিগত ঘৃণার শিকার হয়েছেন তিনি, যেখানে অন্যান্য আফ্রিকান দেশ থেকে আসা মানুষ এ ধরনের জাতিগত ঘৃণার শিকার হয়। মাত্র এক বছর বয়সেই শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলা মিয়াকে শব্দ উপলব্ধি করতে পারার জন্য কানে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। প্রথম শব্দটি উচ্চারণ করতে পারার আগে তাকে অন্তত দুই বছর স্পিচ থেরাপি নিতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় জয়ের পর মডেল এবং মার্কেটিং ম্যানেজার মিয়া বলেন, ‘আমি একজন গর্বিত দক্ষিণ আফ্রিকান বধির নারী এবং সমাজ থেকে নিজেকে আলাদা মনে করতে কেমন লাগে সেটি আমি জানি। আমি জানি, আমাকে বাধা জয় করার জন্যই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এবং আজ রাতে আমি সেটাই করেছি।’
