×

প্রথম পাতা

ভয়াবহ রূপ নেবে বন্যা!

Icon

কাগজ প্রতিবেদক :

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভয়াবহ রূপ নেবে বন্যা!

দিন দিন অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিস্তার ঘটছে বন্যার। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও গঙ্গাসহ উত্তরের নদীগুলোর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টির মধ্যে ৪২টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬৩টি পয়েন্টে বেড়েছে আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫ পয়েন্টে।

পাহাড় থেকে আসা উজানের ঢল আর টানা ভারি বৃষ্টিপাতে স্বল্পমেয়াদি বন্যায় এরই মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে হয়ে পড়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, রংপুর, জামালপুর, গাইবান্ধা, ফেনী, রাঙ্গামাটি, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট ও কক্সবাজার জেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২০ লাখ মানুষ। টাঙ্গাইলসহ আরো নতুন নতুন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে বন্যা। জুলাইয়ের শেষভাগে মধ্যমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরের মাস আগস্টে আবারো বন্যা হতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশের একটি অংশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতে এবং স্বাভাবিক বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ু অতি সক্রিয় থাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জুলাই মাসের মধ্যভাগের পর দেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে এখনো স্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়বে। দেশে যে বৃষ্টিপাত হয়, সৃষ্ট বন্যায় সেটার প্রভাব কম। আমাদের দেশের নদীগুলোর উৎপত্তিস্থল ভারত ও মিয়ানমার। সেখানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আমাদের দেশে বন্যা হয়। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে জুলাইয়ে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, ফলে এই পানির চাপ আমাদের এখানেও আসবে।

সিলেট অঞ্চলের নদীর পানি কমতে থাকলেও দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীর পানি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল শনিবার কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় দেশের ১০টি নদীর পানি ২১টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছিল। ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টির মধ্যে ৪২টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬৩টি পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল ৫ পয়েন্টে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট

নদীর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে। তাতে তিস্তা নদীর পানি কিছু পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীসংলগ্ন কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হতে পারে। এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যমুনাশ্বরী, করতোয়া, বাঙ্গালী, আপার করতোয়া, পুর্নভবা, টাঙ্গন, ইছামতি-যমুনা, আত্রাই, মহানন্দা এবং ছোট যমুনা নদীর পানিও বাড়তে পারে। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সার্বিকভাবে কমছে, এ অবস্থা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাতে এ সময়ে এই এলাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বুলেটিনে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তা কমতে পারে। এদিকে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে, পরবর্তী সময়ে ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও বাড়ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। আজ ৭ জুলাই থেকে উন্নতির দিকে যাবে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ১১ জুলাই পর্যন্ত লেগে যাবে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। রংপুর অঞ্চলের নদনদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ১২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া, চিলমারী ও গাইবান্ধার ঘাঘট নদীর পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষেরা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুরের উপসহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ২৬ দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ২৬ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে সকাল ৬টায় বিপৎসীমার দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যমুনেশ্বরী নদীর বদরগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। একইসময়ে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। পানির চাপ মোকাবিলায় ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। অব্যাহত বৃষ্টিপাত আর শুষ্ক মৌসুমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রভাব পড়েছে সাম্প্রতিক বন্যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুব রহমান বলেন, ভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের কিছু স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিরাজগঞ্জের দুটি পয়েন্টে যমুনার পানি ৯ ও ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে সিরাজগঞ্জ শহর ও কাজিপুর উভয় পয়েন্টেই বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া যমুনায় পানি বাড়ায় জেলার সব নদ-নদীর পাশাপাশি বিলের পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রতিদিনই নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বন্যার্তরা। দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির অভাব। জেলার ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি গ্রামে প্রবেশ করায় একটি পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। এ ছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App