×

প্রথম পাতা

পেঁয়াজের ঝাঁজ শুল্কছাড়েও কমেনি

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পেঁয়াজের ঝাঁজ  শুল্কছাড়েও  কমেনি

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অন্যান্য নিত্যপণ্যের মতো পেঁয়াজও চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়াতে পেঁয়াজ আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমিয়েছে সরকার। বাজারেও সরবরাহ পর্যাপ্ত। কিন্তু প্রতি বছরের মতো এবারো সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখানো হচ্ছে। অথচ তথ্য বলছে, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গত ৬ দিনে ৩ হাজার ৫৮৭ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে সারা বছর মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ৫ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের ওপর থেকে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করলে দেশের বাজারে আসতে থাকে। এদিকে দেশি পেঁয়াজের মজুতও শেষের দিকে। এ অবস্থায় বাজারে সরবরাহ কম- এমন অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যটির দাম বাড়াচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তর পেঁয়াজের পাইকারি এবং খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের বাজার।

রাজধানীর শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত ‘ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে’ দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে। এছাড়া শীত মৌসুমের আগে মজুত ফুরিয়ে আসার কারণেও দাম বাড়ছে বলে দাবি আড়তদারদের। আড়তদার জালাল বলেন, শীতের আগে এই সময়টায় দেশি পেঁয়াজ ফুরিয়ে আসে। এদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হলেও সেখানে দাম বেশি হওয়ায় তা পড়তায় পড়ছে না। তিনি বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৫-৭ টাকা বেড়েছে।

শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, বছরের এই সময়ে দেশি পেঁয়াজ শেষ পর্যায়ে থাকে। এক মাসের ব্যবধানে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করে। তবে এবার বন্যায় কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এজন্য এখনো মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসেনি। তাই বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে থাকলে দাম কমে যাবে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, হিলি স্থলবন্দর পাইকারি বাজারের আড়তগুলোতে শুক্রবার বিকালে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম এক লাফে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা দাম কমেছে। দেশের বাজার স্বাভাবিক রাখতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ভারত থেকে ২২ থেকে ২৭ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। গত ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ভারতীয় ১২৭টি ট্রাকে ৩ হাজার ৫৮৭ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এসব পেঁয়াজ নতুন শুল্ক ২০ শতাংশ দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। আমদানির তুলনায় পেঁয়াজের দাম কেন কমছে না- এই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি ও মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৫৮ জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর। তাতে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় বলে জানান কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, আগের সরকারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা মাঝখান থেকে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করছে বিভিন্ন পণ্যে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পণ্যের দাম বেঁধে দিলেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে না।

গোলাম রহমান আরো বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। বাজারে যে চেইন রয়েছে, তা ভাঙতে হবে; উৎপাদক বা আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা এই তিন পর্যায় রাখতে হবে। এছাড়া পণ্যের দাম কমাতে শুধু শুল্কছাড় যথেষ্ট নয়, বাজার কঠোরভাবে মনিটর করাও প্রয়োজন। পণ্যের দাম কমাতে সরকার যেসব সুবিধা দিচ্ছে, তা ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। তা না হলে বরাবরের মতো ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন, ক্রেতারা হবেন বঞ্চিত।

প্রতিযোগিতা কমিশনের তথ্যে জানা গেছে, এ পর্যন্ত সাধারণ চাল ও করপোরেট চালে ২০টি, ভোজ্যতেলে ৯টি, ডিম নিয়ে কারসাজি করায় ১৭টি, মুরগি সিন্ডিকেটে ৯টি, পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একটিসহ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ১২০টি মামলা করেছে। তারপরও সিন্ডিকেটের কারসাজি কমছে না।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, বাজারে বিভিন্ন পণ্যের অদৃশ্য সিন্ডিকেটও আছে। তাদের অনেক সময় চিহ্নিত করা যায় না। কারণ, তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট লোকেশন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। তারা ফোন এবং অনলাইনে সিন্ডিকেটবাজি করে। ফলে ডিমসহ যেসব পণ্যের দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে, সেই দামে বাজারে পণ্য পাওয়া যায় না। এটা কঠিন। আমরা এরই মধ্যে ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের এক অংশকে চিহ্নিত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতি জেলায় জেলায় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অভিযানের পাশাপাশি আমরা পণ্যের সরবরাহ লাইন নিরবচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করছি। শুধু অভিযানে কাজ হয় না। সরবরাহ লাইন ঠিক না থাকলে বাজারে নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

‘সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App